মিশরের ইতিহাসে রাজা তুতেনখামেনের নাম চিরকাল অম্লান। শুধুমাত্র তাঁর সংক্ষিপ্ত রাজত্ব নয়, বরং মৃত্যুর রহস্যও এই নামটিকে ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায়ে পরিণত করেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মৃত্যু, সমাধি খুঁজে পাওয়া এবং সমাধিতে মিলিত বহুমূল্য রত্নালংকার-সবই তাঁকে শুধু রাজা নয়, একটি কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে।
তুতেনখামেনের সমাধি খুঁজে পাওয়া ৪ নভেম্বর ১৯২২ সালে ইতিহাস বদলে দেয়। এক দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ‘ভ্যালি অব কিংস’-এ খুঁজে পাওয়া যায় সমাধির প্রবেশপথ, যা পাথরের নিচে চাপা পড়ে ছিল। গবেষক হাওয়ার্ড কার্টার চারটি কক্ষে বিভক্ত সমাধির ভিতরে প্রবেশ করে, চতুর্থ কক্ষে মমি করা তুতেনখামেনকে খুঁজে পান। এই সমাধি শুধু রাজকীয় নয়, বরং প্রাচীন মিশরীয় স্থাপত্য ও শিল্পের অমূল্য নিদর্শন।
মমি এবং সমাধিতে থাকা রত্নালংকার প্রমাণ করে, তুতেনখামেন ছিলেন রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক। সমাধি খুঁজে পাওয়ার পরই শুরু হয় মৃত্যু রহস্যের অনুসন্ধান। জানা যায়, তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০৫ সালে। মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে রাজত্ব শুরু করেছিলেন, কিন্তু ১৯ বছর বয়সেই তাঁর জীবন শেষ হয়।
তুতেনখামেনের মৃত্যুকে ঘিরে প্রচুর গুজব প্রচারিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হল ‘তুতেনখামেনের অভিশাপ’—যে কেউ তাঁর সমাধি ভাঙবে, সে মৃত্যুর শিকার হবে। এমন গুজবের পরও গবেষকরা সঠিক তথ্যের খোঁজে কাজ চালিয়েছেন।
মমির এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, রাজা তুতেনখামেন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া আরও কিছু অসুস্থতা দেখা যায়, যেমন হাতের তালুর ফাটল এবং মৃত্যুর আগে পা ভেঙে যাওয়া। কিছু গবেষক মনে করেন, তাঁর মা-বাবা পরস্পরের ভাই-বোন হওয়ার কারণে জেনেটিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবুও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়নি। হত্যা বা আঘাতের কোনো চিহ্ন মেলেনি।
তুতেনখামেনের মমি আবিষ্কারের সময় তাঁর মাথায় সোনার মুখোশ পরানো ছিল। কফিনের ভিতরে ও বাইরে ছিল প্রচুর হীরা-জহরত। এই মুখোশ এবং সমাধির অভ্যন্তরের সম্পদ প্রমাণ করে, তিনি কেবল রাজা নয়, বরং প্রাচীন মিশরের রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক।