দারিদ্র্য কি মেধার পথে অন্তরায় হতে পারে? এই চিরন্তন প্রশ্নটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিহারের পটনায়, নীরবে বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে একটি প্রতিষ্ঠান, রামানুজন স্কুল অফ ম্যাথমেটিক্স (RSM)। ১৯৯২ সালে প্রখ্যাত গণিতবিদ আনন্দ কুমার মাত্র দুজন শিক্ষার্থী নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন অর্থের অভাবে নষ্ট হয়ে যায় বহু ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন। আর সেই ভাবনা থেকেই এই স্কুলটি মেধাবী ও অসহায়-গরিব শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের এক 'লাইট হাউস'।
আনন্দ কুমার নিজে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও কেবল অর্থের অভাবে যেতে পারেননি। আর সম্ভবত এই অভিজ্ঞতাই জীবন বদলে দেয় আনন্দর। মাত্র ৫০০ টাকার ভাড়ার ঘর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এরপর ২০০২ সালে এই স্কুলের হাত ধরেই জন্ম নেয় বিশ্বখ্যাত ‘সুপার ৩০’ (Super 30) কর্মসূচি।
প্রতি বছর সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবার থেকে ৩০ জন অত্যন্ত প্রতিভাবান শিক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হয়। রামানুজন স্কুল অফ ম্যাথমেটিক্সের আয় থেকেই এই ৩০ জন শিক্ষার্থীর থাকা, খাওয়া এবং আইআইটি-জেইই (IIT-JEE) পরীক্ষার সম্পূর্ণ কোচিং বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এখানকার বিশেষ শিক্ষাদান পদ্ধতি গাণিতিক সূত্র মুখস্থ করার চেয়ে তার ভেতরের লজিক ও সৌন্দর্যকে বুঝতে শেখায়।
বিগত দুই দশকে এই প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি (IIT)-তে জায়গা করে নিয়েছেন। বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন একে ‘বেস্ট অফ এশিয়া’ তালিকায় স্থান দিয়েছে এবং ২০১৯ সালে বলিউড এর ওপর ভিত্তি করে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছে। এই দীর্ঘ যাত্রার স্বীকৃতি হিসাবে ২০২৩ স্টলে আনন্দ কুমারকে পদ্মশ্রী-তে ভূষিত করা হয়।