রাস্তাঘাটে চলার পথে আমরা বহু মানুষের মুখোমুখি হই। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে প্রত্যেকেই কিন্তু কিছু না কিছু জীবন শিক্ষা আমাদের দিয়ে যায়। "এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়, পাঠ্য যে-সব পাতায় পাতায়", কবি সুনির্মল বসুর কবিতার এই দুটো লাইন মনে পড়ে গেল, সবার আমি ছাত্র। সেরকমই বছর ষোলোর এক ছেলে আমাদের জীবন পাঠের শিক্ষা দিচ্ছে প্রতিদিন। প্রতিবন্ধকতা কখনই যে স্বপ্ন-র অন্তরায় হতে পারে না, সেই শিক্ষাই যেন প্রতিনিয়ত দিয়ে চলেছে দেবরাজ।
দেবরাজ মন্ডল,বয়স ১৬ বছর, বাড়ি কল্যাণী। ষোলো বছরের এই ছোট্ট জীবন অনেককিছুই কেড়ে নিয়েছে ওর থেকে, দিয়ে গেছে প্রতিকূলতা। জন্ম থেকেই হাতের আঙ্গুল গুলো সম্পূর্ণ নয় তাঁর। অনেক অল্প বয়সেই মা-বাবা কে হারায় দেবরাজ। একটি ভাড়া বাড়িতে দিদার সঙ্গে থেকে সংসারের দায়িত্ব সামলায় ও। কিন্তু এত প্রতিকূলতা কিন্তু জীবন যুদ্ধে হার মানাতে পারেনি দেবরাজ মণ্ডলকে।
এমনিতে ভগবান কিছু কেড়ে নিলে বদলে ঠিক কিছু দিয়ে দেন, দেবরাজকে দিয়েছেন প্রতিভা। ওই ছোট ছোট আঙ্গুল দিয়েই বাঁশিতে সুর তোলে দেবরাজ। প্রতিদিন সকাল ১০টা-১১টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁশি নিয়েই দেখা যায় তাকে, কখনও কাঁচরাপাড়া, কখনও কল্যাণী, আবার কখনও নৈহাটি স্টেশনে। প্রতিদিন বাঁশি বাজিয়ে তার আয় হয় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
হাতের আঙ্গুলগুলি অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও দেবরাজ বাঁশি বাজিয়ে যায়। শুরুতে বিষয়টা এতটাও সহজ ছিল না, কিন্তু অদম্য জেদ আর ইচ্ছে শক্তির কাছে এই বাধাও হার মেনেছে। দেবরাজ স্বপ্ন দেখে বড় মিউজিক ডিরেক্টর হওয়ার। বাধা কাটিয়ে সে নিশ্চই একদিন তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছাবে। দেবরাজ একদিন ঠিক আমাদের শিখিয়ে যাবে ইচ্ছার কাছে বড় প্রতিকূলতাও অনেক সময় হার মেনে যায়।