Calcutta Television Network

"কাপল্ বক্স", দুপুরের প্রেম আর ম্যাটিনি টিকিটে নস্টালজিয়া সিঙ্গেল স্ক্রিন!

"কাপল্ বক্স", দুপুরের প্রেম আর ম্যাটিনি টিকিটে নস্টালজিয়া সিঙ্গেল স্ক্রিন!
18 September 2026 05:53:33 pm

যে সময়টার কথা বলছি সেটা ওই ২০১০-১১ সাল, সেই সময়ে সিনেমা হলে "কাপল্ বক্স"-এর রমরমা l যদিও বেশিরভাগই গন্ধওয়ালা, হাতল ভাঙা, গদি মোড়া পুরানো সিট্ l কিন্তু ২০০ টাকায়, হালকা আলোয় দুই মাথা এক হয়ে যাওয়ার গল্প লেখা হত এই গদিতেই l লাইট ম্যানদের হাতে বিশ-পঞ্চাশ টাকা গুঁজে দিলেই, আর কোনো সমস্যা নেই l তবে আশি বা নব্বইয়ের দশকে বক্সের চাহিদা ছিল আরও বেশি। তখন সিঙ্গেল স্ক্রিন, একদিকে সিনেমা চলছে আর অন্য দিকে গোটা হল থেকে বিচ্ছিন্ন দুটো মানুষ। তখন দুপুরের প্রেম, ম্যাটিনি টিকিটেই খুঁজে পাওয়া যেত। সিনেমা হলের আলোচনা যতদিন থাকে 'কাপল বক্স'-এর কথা কিন্তু আজীবন নস্টালজিয়া হয়ে থাকবে। 

বক্স সিটের ধারণাটি মূলত এসেছিল দর্শকদের একটু বাড়তি প্রাইভেসি দেওয়ার জন্য। সাধারণ আসনের চেয়ে এর টিকিটের দাম সাধারণত বেশি থাকত। হলের পেছনের দিকে বা ওপরের ব্যালকনি ঘেঁষে তৈরি হতো এই বিশেষ কেবিনগুলো। কাঠ বা ভারী পর্দার আড়ালে তৈরি এই বক্সগুলো কাপলদের কাছে ছিল তুমুল জনপ্রিয়। আশি-নব্বইয়ের রক্ষণশীল সমাজে প্রেমিক-প্রেমিকাদের একটু নিরিবিলিতে গল্প করা বা পাশাপাশি বসে সময় কাটানোর জন্য সিনেমা হলের বক্স-ই ছিল সেই সময়কার 'ওয়ো', আর সেই কারণে বক্সের টিকিটের চাহিদা ছিল মারাত্মক। 

ছবি: এআই 

হাতিবাগানের দর্পনা একটা সময়ে অনেকের কাছে ইমোশন ছিল। এছাড়াও মফস্বলের দিকে গেলে বারাসাতের লালি, কল্যাণীর সঙ্গম, ব্যারাকপুর অতীন্দ্র, অমলা, সোদপুরের পদ্মা l হাতে সময় মাত্র দু ঘন্টা, কিন্তু ভালোবাসায় ভেজার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা কোথাও ছিলো না আর। কখনো কখনো ভালেন্টাইন সপ্তাহে ২০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে l আবার কোনও হলের একটা বক্স তিনবার বিক্রি হয়েছে। 

২০১৬-১৭ সাল পর্যন্ত বেশ রমরমা ছিল সিঙ্গেল স্ক্রিনের, সাথে বক্স সিটের। ওয়ো কালচার আসার পরে অবশ্য কলকাতায় বক্সের চাহিদা একদমই তলানিতে এসে গেছিলো, এখন তো সেসব বন্ধই হয়ে গেছে l সেই সঙ্গে সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হতে শুরু করল। মাল্টিপ্লেক্স দখল করল সিনেমা জগৎ। মফস্বলে যদিও পাওয়া যায় কাপেল সিট্, খাস কলকাতায় সেসব উঠে গেছে কবেই l দর্পনা বন্ধ হয়েছে বছর সাতেক বোধহয়, লালির খবর জানা নেই, শুধু ব্যারাকপুরের অতীন্দ্র বোধহয় বক্সকে আধুনিকতার মোড়ক দিয়ে রিকলাইনার করে দিয়েছে l তবুও, ওই যে সময়টা, মুখে হালকা গোঁফের রেখা, নীল আলো, একটা হাতল ভাঙা সোফা সিট্, গায়ে গায়ে, দুই মাথা এক হয়ে যাওয়া, নস্টালজিয়া হয়ে থেকে যাবে।   


×
  • CTVN