Calcutta Television Network

'মহৎ আলয়' থেকে মহালয়া, দুর্গাপূজার সাথে আদৌ কোনো যোগ আছে এই তিথির?

'মহৎ আলয়' থেকে মহালয়া, দুর্গাপূজার সাথে আদৌ কোনো যোগ আছে এই তিথির?
10 October 2026 • 02:45:08 pm

"অশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর", ভোর চারটে , বীরেন ভদ্রের গলায় চন্ডীপাঠ দিয়ে ঘুম ভাঙছে বাংলার। অপেক্ষার আর ৫ টা দিন, উৎসবে মেতে উঠবে বাঙালি। আজ মহালয়া, ঘুম জড়ানো চোখে "মহিষাসুরমর্দিনী" শেষ করেই তর্পণ, এর মাঝে দেবীর চক্ষুদান, ঢাকের আওয়াজ, পূজা আসছে।  পিতৃ পক্ষের শেষে দেবী পক্ষের সূচনার ক্ষণ-ই হলো মহালয়া। ভাদ্র পূর্ণিমা থেকে শুরু হওয়া পিতৃপক্ষ, একপক্ষ কাল পেরিয়ে এই অমাবস্যায় শেষ হয়। মহালয়া,যার অর্থ মহৎ আলয়, যে লোকে আমাদের স্বর্গত পিতৃপুরুষেরা অবস্থান করেন। শাস্ত্র মতে, এই দিন পিতৃপুরুষেরা মর্তে আসেন, তাদের তৃপ্ত করতেই এই তিথিতে জল দানের রীতি। মৃত পিতৃপুরুষের আত্মার তৃপ্তির উদ্দেশ্যে জলদান-ই হলো তর্পণ।


তর্পণ নৈমিত্তিক কর্ম, অর্থাৎ যে কর্ম গোটা বছর ধরেই করা যায়। কিন্তু এই দিনে শুধু তর্পণ নয়, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তিলদান করা হয়ে থাকে, আবার অনেকে শ্রাদ্ধাদি কর্মও করে থাকেন। অবশ্য এক্ষেত্রে পিতৃপুরুষ বলতে, শুধু বাবা-মা বা পরিবারের সদস্য নন, সর্বভূতের উদ্দেশ্যে জল দান করা হয়, তৃপ্ত হন ত্রিদেব, পৃথিবী, পিতামহ ভীস্ম।  

শাস্ত্রীয় বিচার করলে মহালয়া ও দুর্গাপূজার মধ্যে সেভাবে কোনও সম্পর্ক পাওয়া যায়না। কারণ মহালয়ার অনেক আগেই কৃষ্ণানবমী কল্পে দেবীর বোধন সম্পন্ন হয়ে যায়। কলকাতা তথা বঙ্গের বহু পুরানো পূজা ও রাজবাড়ির পূজা গুলির বোধনও হয়ে যায় এই কল্পে। কিন্তু বাঙালির প্রাণে মহালয়া গেথে যাওয়ার পিছনে কারণ কি ? সেটা খুঁজতে গেলে আমরা ফিরে যাই একটু পিছন দিকে। সালটা ১৯৩২, বাণীকুমারের রচনা, পঙ্কজ মল্লিকের সুর আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জাদুকরী কণ্ঠ দিয়ে শুরু হলো এক কালজয়ী অনুষ্ঠান, "মহিষাসুরমর্দিনী", সম্প্রচার করলো আকাশবাণী।  আর সেই শুরু, তারপর থেকে আজও শুধু এই অনুষ্ঠানের জন্য, গোটা একটা জাতি ভোর চারটেয় ঘুম থেকে উঠে পরে।


মহালয়া মনে করায়, ষষ্ঠী আসতে আর ছয়দিন বাকি। নীল আকাশে তখন পেঁজা তুলোর মতো মেঘ, চক্ষুদানের পরে মা চললেন মণ্ডপে। কুমারটুলিতে গাড়ির লাইন, ডুলিদের "হেইয়ো হেইয়ো" শব্দ, ভেঁপুর আওয়াজ, শিয়ালদহ স্টেশনে ঢাকিদের বায়না করার হুজ্জুতি। শেষ মুহূর্তে বাঁশে পেরেকের ঠোকাঠুকি, হাতিবাগানে লাস্ট মিনিট জুতোর খোঁজ। উফফ, ওই পূজা,বাপরে। প্রতিপদ থেকে শুরু দেবীপক্ষ, সঙ্গে দ্বিতীয় কল্প অর্থাৎ প্রতিপদাদিকল্পের বোধন, তারপর ষষ্ঠী থেকে দশমী, নবরাত্রি, লক্ষীপূজা-সব মিলিয়ে একপক্ষ কাল দেবী আরাধনা। নীল আকাশ, ছেঁড়া সাদা মেঘের মতোই মহালয়াও দুর্গাপূজার বার্তা নিয়ে আসে বটে, কিন্তু এই উৎসবের সাথে এই তিথির কোনো সরাসরি যোগ নেই।