ভারতের কেরালা রাজ্যের তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে অনেক কিংবদন্তি। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মন্দিরের মাটির নিচের গোপন কক্ষগুলো খোলা হলে বেরিয়ে আসে প্রচুর মূল্যের সোনা, হিরে, রূপা সহ বহুমূল্য রত্ন এবং প্রাচীন মুদ্রা। তবে মন্দিরের ছয়টি ভূগর্ভস্থ কক্ষের মধ্যে পাঁচটি খোলা সম্ভব হলেও, খোলা যায়নি সপ্তম দরজাটি, যেটি ছিল 'ভল্ট বি'। এর প্রবেশদ্বারটি নিরেট লোহার তৈরি। এই দরজায় নেই কোনো তালা, চাবি, কব্জা বা ছিটকিনি। দরজার গায়ে খোদাই রয়েছে দুটি বিশালাকার ফনা তোলা সাপ। স্থানীয় বিশ্বাস এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, এই কক্ষটি কোনো সাধারণ চাবি দিয়ে বন্ধ করা হয়নি, এটি বন্ধ করা হয়েছে 'নাগ বন্ধনম' বা 'নাগ পাশম' মন্ত্রে।
বহু শতাব্দী আগে ত্রিবাঙ্কুর রাজপরিবারের পুরোহিতরা বৈদিক 'নাগ বন্ধন' মন্ত্রের মাধ্যমে এই দরজাকে নাগপাশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন । বলা হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিদ্ধ পুরুষই সম্পূর্ণ শুদ্ধ চিত্তে এবং নির্ভুল স্বরে 'গরুড় মন্ত্র' উচ্চারণ করে এই 'নাগ বন্ধনম' মুক্ত করতে পারেন। তবে যদি মন্ত্র উচ্চারণে সামান্যতম ভুল হয়, সেই সাধকের মৃত্যু অনিবার্য। বর্তমানে তেমন সাধকের সন্ধান মেলা একপ্রকার অসম্ভব বলেই দরজাটি খোলার সাহস পায়নি কেউ। ১৯৩১ সালে একবার এই ভল্টটি খোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। দরজা ভাঙার চেষ্টা করতেই ভেতর থেকে শয়ে শয়ে বিষাক্ত সাপ বেরিয়ে আসে। বলা হয় জোর করে এই দরজা খোলার চেষ্টা করলে পৃথিবীতে নেমে আসবে মহাপ্রলয়।
গবেষকরা অনেকেই মনে করেন, দরজায় কোনো মেকানিজম বা অ্যাসিড লক থাকতে পারে, যা ভুলভাবে স্পর্শ করলে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত করে। আবার অনেকের মতে, মাটির নিচের এই কক্ষটির সঙ্গে সুড়ঙ্গ মারফত সরাসরি আরব সাগরের সংযোগ রয়েছে। ফলে দরজা ভাঙলে সমুদ্রের জল ঢুকে পুরো মন্দিরটিই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাছাড়াও শোনা যায় ওই সুড়ঙ্গ মারফত ভারতের বিভিন্ন মন্দিরে যাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। ত্রিবাঙ্কুর রাজপরিবারের তীব্র আপত্তির কারণে 'ভল্ট বি' আজও খোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে সব থিওরির পরেও 'ভল্ট বি' আজও অমীমাংসিত রহস্য। প্রাচীন ঐতিহ্য আর বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষার্থেই আজ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে রয়েছে পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের এই সপ্তম দুয়ার।