Calcutta Television Network

আজও নাকি সমাধি থেকে বেরোয় টাটকা রক্ত? পার্কস্ট্রীটের গোরস্থানের রহস্য কি!

আজও নাকি সমাধি থেকে বেরোয় টাটকা রক্ত? পার্কস্ট্রীটের গোরস্থানের রহস্য কি!
30 September 2026 • 05:49:42 pm

কলকাতার সাউথ পার্ক স্ট্রিট সিমেট্রির গেট পেরিয়ে ভেতরে পা রাখলেই হারিয়ে যায় তিলোত্তমার চেনা কোলাহল, বদলে জায়গা করে নেয় শতাব্দী প্রাচীন নিস্তব্ধতা। এই গোথিক স্থাপত্যে তৈরী এই কবরস্থানের ৩১ নম্বর সেক্টরে দাঁড়িয়ে থাকা শতাব্দী প্রাচীন সমাধি, যা পরিচিত 'ব্লিডিং টম্ব' নামে। পিচঢালা মাদার টেরেজা সরণির ঠিক পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই সমাধিটি বছরের পর বছর ধরে ইতিহাসবিদ ও রহস্যপ্রেমীদের মনে কৌতূহল তৈরী করে।

এই রহস্যের সূত্রপাত হয়েছিল ১৮০৬ সালের শেষভাগে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ক্যাপ্টেন ই.এস.এফ ডেনিসন, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের সদ্যজাত সন্তান সহ গোটা পরিবারটি কোনো এক অজানা কারণে মারা যান। ১৭৬৭ সালে তৈরি এই সমাধিক্ষেত্রে যেখানে বহু ব্রিটিশ শুয়ে আছেন, সেখানেই ঠাঁই হয় ডেনিসন পরিবারের। তবে মৃত্যুর এই আকস্মিকতাই সমাধিটিকে ঘিরে রহস্য ও মিথের জন্ম দেয়।

সময়ের সাথে সাথে এই কবরটি ঘিরে ডালপালা মেলতে থাকে অলৌকিকতার, যা থেকেই এর নাম হয় 'ব্লিডিং টম্ব'। কিছু ঘোস্ট ফাইন্ডারদের দাবি ছিল, প্রতি বছর বর্ষাকাল, সমাধির পাথর চুঁইয়ে এক ধরণের লাল রঙের তরল নির্গত হয়, যা দেখতে হুবহু তাজা রক্তের মতো। তাদের মতে, অকালে চলে যাওয়া এই পরিবারের অতৃপ্ত আত্মারা আজও তাদের অন্তহীন কষ্টের কথা এইভাবেই জানান দেন। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত 'গোরস্থানে সাবধান' উপন্যাসের পাতা থেকে শুরু করে শহরের হেরিটেজ ওয়াক, সব জায়গাতেই এই সমাধির গা-ছমছমে গল্প বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।


তবে এই অলৌকিক এই গল্পের সামনে, যুক্তিবাদীরা রেখেছেন অন্য এক ব্যাখ্যা। তাঁদের বক্তব্য, এই তথাকথিত রক্তক্ষরণের পেছনে কোনো ভূত-প্রেত বা অতৃপ্ত আত্মার হাত নেই। বর্ষাকালে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং বৃষ্টির জলের সংস্পর্শে, সমাধিটির বেলেপাথর ও ইটের ভেতরে ও কাঠমোর লোহায় মরচে ধরে। এর ফলে লালচে বা খয়েরি রঙের জল চুইয়ে বের হয়, যা দূর থেকে দেখলে রক্তের মতো মনে হয়। আবার অনেকে মনে করেন, পাথরের খাঁজে খাঁজে জমে থাকা এক বিশেষ ধরণের লাল ছত্রাক বা শ্যাওলা বৃষ্টির জলে ধুয়ে নিচে নেমে আসার ফলেই এমন দেখায়।

বিজ্ঞান বা যুক্তি যাই বলুক না কেন, কলকাতার ইতিহাসের পাতা থেকে এই রোমাঞ্চকর গল্পটির আকর্ষণ কিন্তু আজও বিন্দুমাত্র কমেনি।  ডেনিসন পরিবারের এই  শ্যাওলা-ধরা সমাধিটির সামনে দাঁড়িয়ে এক অদ্ভুত শিহরন অনুভব করেন রহস্য প্রেমীরা। বিজ্ঞান আর বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে 'ব্লিডিং টম্ব' আজও কলকাতার বুকে ছেড়ে গেছে অমীমাংসিত রহস্য।