Calcutta Television Network

'মুক্তি ভবন', যেখানে মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন কাটে মানুষের

'মুক্তি ভবন', যেখানে মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন কাটে মানুষের
26 October 2026 • 03:00:16 pm

'কাশ্যম মরণম মুক্তি' অর্থাৎ কাশীতে মৃত্যু হলেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মার্ক টোয়েন তাঁর Following the Equator: A Journey Around the World-বইতে বলেছিলেন, "Benares is older than history, older than tradition, older even than legend, and looks twice as old as all of them put together." I ইতিহাসের চেয়েও পুরানো, ঐতিহ্যের চেয়েও পুরানো এ শহর যেমন জীবনকে নতুন দর্শন দেয়, তেমনি মৃত্যুকে উদযাপন করে প্রতিদিন। এই শহরের অলি-গলিতে, শতাব্দী প্রাচীন ভাঙা মন্দিরের দেওয়ালে, আর যুগ যুগ ধরে বয়ে চলা গঙ্গার স্রোতে জীবন-মৃত্যু পাশাপাশি ঘর করে। মৃত্যু দিয়ে আমাদের জীবনের যখন শেষ হয়, এই শহরে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়, মোক্ষ। আর এই শহরেই রয়েছে এমন এক হোটেল বা গেস্টহাউস, যেখানকার বোর্ডাররা অপেক্ষা করে মৃত্যুর।    


বলা হয় কাশীধামে মৃত্যু হলে, জীব তার জন্ম-মৃত্যুর অনন্ত চক্র থেকে রেহাই পায় এবং মুক্তি লাভ করে। আর এই বিশ্বাসকে ভিত্তি করেই ১৯৫৮ সালে বেনারসের মিসির পোখরা এলাকায় ডালমিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে গড়ে ওঠে আবাসস্থল, মুক্তি ভবন। বাইরে থেকে আর পাঁচটা সাধারণ বাড়ির মতো দেখতে হলেও, এর ভেতরের গল্পটা কিন্তু বেশ অন্যরকম। না এটি কোনো হাসপাতাল, না প্রথাগত হোটেল, মুক্তিভবন মৃত্যুপথযাত্রীদের শেষ আশ্রয়। এখানে থাকতে আসেন মুমূর্ষু রোগী যাদের ডাক্তার জবাব দিয়ে দিয়েছেন, যারা হয়ত আর কয়েকটা দিনই এই জগতে থাকবেন। তাই ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয় সকলের জন্য। এই ১৫ দিনের মধ্যে যদি কেউ মারা না যান তাহলে ঘর ছেড়ে দিতে হয় তাকে। তবে এখন অবশ্য অনেক বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার পাকাপাকি ঘর হয়ে গেছে এই মুক্তি ভবন। 


গোটা বাড়িটিতে রয়েছে  ১০ থেকে ১২টি ঘর এবং সাথে একটি ছোট্ট মন্দির। মাত্র দিনপ্রতি ২০ টাকার বিনিময়ে এখানে থাকতে পারেন মৃত্যু পথযাত্রীরা। তবে এখানে নেই কোনো কান্নাকাটি বা শোকের পরিবেশ। সারাদিন চলে ঈশ্বরের নাম-সংকীর্তন, গীতা ও রামায়ণ পাঠ। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রিয়জনের শেষ দিনগুলোতে পাশে বসে ঈশ্বর আরাধনা করেন। এই ভবনের ম্যানেজার ও কেয়ারটেকারদের তত্ত্বাবধানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ শান্তিতে এখানে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ২০১৬ সালে বলিউডে ‘মুক্তি ভবন’ (আন্তর্জাতিক বাজারে ‘হোটেল স্যালভেশন’) নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। কাশীতে মৃত্যু সত্যিই মুক্তি দেয় কি না সেটা জানা নেই, তবে মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে গরিব-বড়োলোক বা হাজার ভেদাভেদ যে একেবারেই মুছে যায়, তা কিন্তু মুক্তিভবন বার বার মনে করিয়ে দেয়।