আজকের ব্যস্ত জীবনে মোবাইল ফোন যেন অভিভাবকদের এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী! বাচ্চা কাঁদছে? মোবাইল ধরিয়ে দিন। খেতে চাইছে না? চালিয়ে দিন কার্টুন। একটু শান্তিতে কাজ করতে চান? শিশুর হাতে তুলে দিন স্মার্টফোন। মুহূর্তেই সমস্যার সমাধান! কিন্তু এই সাময়িক স্বস্তির আড়ালে অজান্তেই সন্তানের ভবিষ্যতের ক্ষতি করে ফেলছেন না তো?
শৈশব মানেই কৌতূহল, প্রশ্ন, দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা আর নতুন কিছু শেখার আনন্দ। অথচ মোবাইলের রঙিন পর্দায় চোখ আটকে থাকলে শিশুর চারপাশের বাস্তব জগৎকে চেনার সুযোগ ক্রমশ কমে যেতে পারে। মাটি ছুঁয়ে দেখা, পাখির ডাক শোনা, খেলনা নিয়ে কল্পনার জগৎ তৈরি করা কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে গল্প করার মধ্য দিয়েই তো গড়ে ওঠে শিশুর বুদ্ধি, ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে ভাষা বিকাশ, মনোযোগ ও ঘুমের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলা, চোখের যোগাযোগ এবং পারস্পরিক খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। মোবাইল কখনও বাবা-মায়ের স্নেহ, সাহচর্য ও ভালোবাসার বিকল্প হতে পারে না।
তাহলে কী করবেন? শিশুকে শান্ত রাখতে সব সময় মোবাইলের সাহায্য নেবেন না। তার সঙ্গে গল্প করুন, ছড়া বলুন, ছবি আঁকুন, বয়সোপযোগী খেলায় উৎসাহ দিন। প্রয়োজনে বয়স অনুযায়ী সীমিত ও বাছাই করা স্ক্রিন ব্যবহারের ব্যবস্থা করুন।মনে রাখবেন, শিশুকে কিছুক্ষণ ব্যস্ত রাখার জন্য মোবাইল হয়তো সহজ উপায়, কিন্তু তার শৈশবকে পর্দার মধ্যে বন্দি করে রাখা কখনও কাম্য নয়।