Calcutta Television Network

১২ বছর অন্তর বজ্রপাতে শিবলিঙ্গ হয়ে যায় খন্ড খন্ড, জুড়ে দেওয়া হয় মাখন ও ছাতু দিয়ে!

১২ বছর অন্তর বজ্রপাতে শিবলিঙ্গ হয়ে যায় খন্ড খন্ড, জুড়ে দেওয়া হয় মাখন ও ছাতু দিয়ে!
12 September 2026 07:37:48 pm

আসমুদ্র হিমাচল এই দেশ ভারতবর্ষ, তার আনাচে কানাচে রয়ে গেছে রহস্য আর অলৌকিকতা। প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেসব রহস্যের হদিস দিতে পারেনি বিজ্ঞানও। পাহাড় ঘেরা হিমাচলে সেরকমই রয়েছে এক অলোকিক শিব মন্দির। হিমাচল প্রদেশের কুল্লু উপত্যকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪৬০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত বিজলী মহাদেব মন্দির ভারতের রহস্যময় তীর্থক্ষেত্র গুলির একটি । বিপাশা এবং পার্বতী নদীর সঙ্গমে, কাশাওরি গ্রামে এই প্রাচীন শিব মন্দিরটি অবস্থিত। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ও পুণ্যার্থী কেবল ধর্মীয় টানেই নয়, বরং প্রকৃতির এক অদ্ভুত বিস্ময় নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করতে এখানে ছুটে আসেন। 


এই মন্দিরের মূল আকর্ষণ ও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর নামের পেছনে। লোকবিশ্বাস এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, প্রতি ১২ বছর পর পর এই মন্দিরের ওপর এক প্রচণ্ড বজ্রপাত ঘটে। বজ্রপাতের তীব্রতায় মন্দিরের ভেতরের শিবলিঙ্গটি সম্পূর্ণ খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। এরপর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ভাঙা টুকরোগুলোকে কুড়িয়ে নিয়ে মাখন, ছাতু ও শস্য দিয়ে জোড়া লাগান। অলৌকিকভাবে, কিছুদিনের মধ্যেই শিবলিঙ্গটি আবার আগের রূপ ফিরে পায়। এই অদ্ভুত ঘটনার কারণেই এখানে শিবকে 'বিজলী' নামে ডাকা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এই অঞ্চলে 'কুলন্ত' নামে এক অসুর ছিল। সে এক বিশাল সর্পের রূপ নিয়ে বিপাশা নদীর গতিপথ রোধ করে পুরো উপত্যকাকে ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল। ভগবান শিব ক্রোধিত হন এবং তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন ও তাকে বধ করেন। মৃত্যুর পর অসুরের  বিশাল শরীরটি একটি বড় পাহাড়ে পরিণত হয়, যা আজকের 'কুল্লু' উপত্যকা নামে পরিচিত। ভগবান শিবের নির্দেশে দেবরাজ ইন্দ্র প্রতি ১২ বছর পর পর এখানে বজ্রপাত ঘটান, যাতে বজ্রপাতের তীব্রতা এই পৃথিবীর কোনো ক্ষতি না করতে পারে, তাই সেই বজ্রের তীব্রতা মহাদেব নিজের বুকে ধারণ করতে পারেন।  


মন্দির প্রাঙ্গণে একটি ৬০ ফুট উঁচু কাঠের স্তম্ভ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই স্তম্ভটিই আকাশের বিদ্যুৎকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে মন্দির ও আশেপাশের গ্রামকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে। বিজলী মহাদেব কেবল ধর্মীয় কারণে বিখ্যাত নয়, এটি পাহাড় প্রেমীদের কাছেও  স্বর্গরাজ্য। কুল্লু থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত 'চানসারী' গ্রাম থেকে এই মন্দিরে যাওয়ার ট্রেকিং রুটটি শুরু হয়। পাইন, দেওদার এবং কাইলের ঘন জঙ্গল ঘেরা এই পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে ওঠার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। চূড়ায় পৌঁছানোর পর চারপাশের হিমালয়ের  স্বর্গীয়  দৃশ্য সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। বলা হয় শান্ত নিঝুম সময়ে শিব লিঙ্গের গায়ে কান পাতলে, অনেক নিচে বয়ে চলা পার্বতী নদীর জলের শব্দ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে, আধ্যাত্মিকতা, রোমাঞ্চ এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এক অসাধারণ মেলবন্ধন এই বিজলী মহাদেব মন্দির। 

×
  • CTVN