২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় একটি তিথি অধিক রয়েছে। পাঁচদিনের জায়গায় এবার ছয় দিন পূজা। তাতে আম বাঙালি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত। কিন্তু শাস্ত্রীয় বিচারে একটা দিন মায়ের অধিক পূজা হবে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে ১০ তারিখ ষষ্ঠীতিথির অধিক পূজা এবং গুপ্তপ্রেস মতে ১১ তারিখ সপ্তমীর অধিক পূজা। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই অধিক পূজা ও দুই সিদ্ধান্তের পঞ্জিকার বিষয়টি কী?
ভারতে পঞ্জিকার ব্যবহার বহু প্রাচীন। আমাদের যাবতীয় পূজা-পার্বণ এই পঞ্জিকা অনুসারেই হয়ে থাকে। নক্ষত্র বিচার করে শাস্ত্রজ্ঞরা তিথি, বারের হিসেব ঠিক করেন। পুরানো পদ্ধতি মেনে যে পঞ্জিকা তৈরি হয়েছে তা হল বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত। সাধারণত মঠ, মিশন ও পুরোনো নতুন বাড়ির পূজাগুলি এই বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মেনেই পূজা-পাঠ করে থাকে। আর গুপ্তপ্রেস তৈরি হয়েছে আধুনিক গণনা পদ্ধতি মেনে, বারোয়ারি বা মোটামুটি ৮০ শতাংশ মানুষ এই গুপ্তপ্রেস মেনেই চলেন। গণনার তফাৎ থাকার কারণে এই দুই পঞ্জিকার তিথির সময়ের অনেকটাই হেরফের থাকে।
শাস্ত্রমতে সূর্যোদয় না হলে তিথি শুদ্ধ হয়না, সেক্ষেত্রে এবছরে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে সূর্যোদয়ের পরেও ষষ্ঠী তিথি থাকার কারণে আজ ১০ই অক্টোবর দেবীর ষষ্ঠী বিহিত অধিক পূজা হবে। আর গুপ্তপ্রেস মতে ১১ই অক্টোবর সূর্যোদয়ের পরে সপ্তমী থাকার কারণে সেইদিন সপ্তমীর অধিক পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ছবি সৌজন্যে: বেলুড় মঠ গ্যালারি
কী এই অধিক পূজা? দেবী দুর্গার পূজা মহাপূজা। অনেক সময় তিথি ভেদে বা তিথির সময় কম হওয়ার কারণে পূজার নিয়মের পরিবর্তন হয়ে থাকে। এবার দুদিন করে তিথি থাকার কারণে ষষ্ঠী বা সপ্তমীতে মায়ের অধিক পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এমনিতে ষষ্ঠী থেকে নবমী অবধি মহাস্নান সহ দেবীর মূল ও আবরণ পূজা ষোড়শ উপাচারে হয়ে থাকে। অধিক পূজায় সেই বিষয়টি কখনও দশপচার বা পঞ্চপচারে হয়ে থাকে। মূল পূজার সঙ্গে অধিক পূজার নিয়মেরও অনেক ভেদ থাকে। অবশ্য শাস্ত্র যাই বলুক না কেন, প্রাণের উৎসবের একটা দিন অধিক মানে আনন্দটাও অধিক, আপাতত তাতেই ভাসছে বাঙালি।