Calcutta Television Network

'উমা'দের জন্য, বাবারা সব পারে!

'উমা'দের জন্য, বাবারা সব পারে!
13 October 2026 • 04:05:47 pm

সন্তানের মুখের হাসির জন্য একজন বাবা কতদূর যেতে পারেন? সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘উমা’ (২০১৮) সিনেমাটি  বোধহয় বারবার এই উত্তর দিয়ে যায়। যীশু সেনগুপ্ত এবং তাঁর বাস্তব জীবনের কন্যা সারা সেনগুপ্ত অভিনীত সিনেমাটি, মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থাকা মেয়ের স্বপ্নপূরণ করার জন্য  এক বাবার অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প। গোটা সিনেমাটা এটাই বলে গেল- "বাবারা সব পারে।"


ছবির গল্প শুরু হয় উমাকে ঘিরে। মারণব্যাধি ক্যান্সার থাবা বসিয়েছে তাঁর শরীরে, আয়ু আর মাত্র কয়েক মাস। সুইজারল্যান্ডে বড় হওয়া উমার শেষ ইচ্ছে, সে কলকাতার দুর্গাপূজা দেখবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত বেঁচে থাকা উমার পক্ষে প্রায়   অসম্ভব। ভয়ঙ্কর এই বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে উমার বাবা হিমাদ্রি (যীশু সেনগুপ্ত) প্রথমে ভেঙে পড়লেও পরে নিজেকে সামলে নেন। হিমাদ্রি সিদ্ধান্ত নেন, মার্চ মাসেই কলকাতার বুকে উমার জন্য তৈরি করবেন দুর্গাপূজা, উৎসবের আবহ। 

আপাতদৃষ্টিতে হিমাদ্রির এই সিদ্ধান্ত হঠকারী বা বোকাবোকা হলেও, সন্তানের জীবনের শেষ আনন্দটুকু এনে দিতে একজন বাবা নিজের সবটুকু বাজি রাখতে পারেন। একজন সাধারণ বাবা হয়ে ওঠেন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিচালক। কলকাতার বুকে ঘটে গেল অকালবোধন, সঙ্গে ছিল ব্যর্থ পরিচালক ব্রহ্মানন্দ (অঞ্জন দত্ত), যদিও সমাজ, প্রশাসনের নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয় হয় হিমাদ্রিকে। কিন্তু একজন বাবার জেদের কাছে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা হার মানে। তবে হিমাদ্রির এই 'জেদ' কিন্তু কোনো অহংকার নয়, এই জেদ ছিল সন্তানের প্রতি এক নিঃশর্ত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সিনেমার শেষে এই 'নকল পুজো'কে আসল রূপ দিতে কলকাতার সাধারণ মানুষও এগিয়ে আসে, কোথাও যেন সূক্ষ্মভাবে কেউ বলে যায়, 'বাবারা সব পারে।'


‘উমা’ কেবল একটি মেয়ের গল্প নয়, গল্পটি হিমাদ্রির মতো সমস্ত বাবাদের গল্প, যাঁরা সন্তানের সামান্য কষ্টেও হিমালয়ের মতো ঢাল হয়ে দাঁড়ান। সৃজিত মুখোপাধ্যায় খুব সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন, একজন বাবা তাঁর সন্তানের জন্য  ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টানোর ক্ষমতা রাখেন। ‘উমা’ সিনেমাটি সেই প্রতিটি বাবার গল্প, যারা সন্তানের জন্য সবটুকু বাজি রাখতে পারে। কেন জানেন? সন্তানের খুশির জন্য বাবারা সত্যিই সব পারে।