Calcutta Television Network

ত্রেতাযুগের গল্প থেকে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার,ময়দার পাতালভেদী কালীর ইতিকথা

ত্রেতাযুগের গল্প থেকে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার,ময়দার পাতালভেদী কালীর ইতিকথা
22 September 2026 05:16:05 pm

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বহড়ু স্টেশন থেকে কিছুটা গেলেই গ্রাম ময়দা, আর সেখানেই রয়েছে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের সাক্ষী পাতালভেদী দক্ষিণাকালী মন্দির। কলকাতা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই তীর্থক্ষেত্রটি তার বিশেষ কিছু  বৈশিষ্ট্যের জন্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। গর্ভগৃহে নেই কোনো মৃন্ময় বা পাথরের কালী মূর্তি। নদীগর্ভে থাকা চারকোনা গর্তের ভেতরে থাকা বিশেষ শিলাকেই দেবীর প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। জনশ্রুতি রয়েছে যে, এই শিলাটি গভীরে পাতাল পর্যন্ত বিস্তৃত, যার কোনো তল খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং সে কারণেই একে 'পাতালভেদী' বলা হয়ে থাকে।


এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ত্রেতাযুগের আখ্যান। জনশ্রুতি বলে, এই শিলাটি আসলে লঙ্কার রাজা রাবণের শ্বশুর এবং অসুর প্রধান ময়দানবের আরাধ্যা ছিলেন। ব্রহ্মার বরপ্রাপ্ত ময়দানবের নামানুসারে দেবীর অপর নাম হয় 'ময়দানবেশ্বরী'। কথিত আছে, অতীতে এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে আদিগঙ্গা প্রবাহিত হতো এবং সেই নদীগর্ভ থেকেই পরবর্তীতে স্থানীয় পাঠক বংশের এক পূর্বপুরুষ এই পাতালভেদী শিলাটি আবিষ্কার করেন। পাঠক বংশের অন্যতম সাধক ভবানী পাঠক মন্দিরের পিছনে বকুলগাছের তলায় পঞ্চমুণ্ডির আসনে এই দেবীর আরাধনা ও সাধনা করতেন, যার স্মৃতি আজও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণমুখী এই মন্দিরে শিলাটির ওপর বছরের পর বছর ধরে তেল ও সিঁদুরের গাঢ় প্রলেপ পড়তে পড়তে তা এক বিশেষ আকার ধারণ করেছে। 

স্থাপত্যের দিক থেকে মন্দিরটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী আটচালা শৈলীতে নির্মিত। ঐতিহাসিক ও লোকসংস্কৃতি গবেষক গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসুর লেখাতেও এই মন্দিরের মাহাত্ম্যের বিস্তারিত উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১১৭৬ বঙ্গাব্দে বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশের সন্তোষ রায় ও গঙ্গাধর চৌধুরীর উদ্যোগে বর্তমানের এই পাকা মন্দিরটি নির্মাণ করা হয় বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। 


প্রথা মেনে আজও কালীপূজোর রাতে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের নামে সংকল্প করে এখানে বিশেষ পূজা করা হয়। বছরের প্রতিটি অমাবস্যায় এখানে বিশেষ উপাচারে পূজার আয়োজন করা হলেও কার্তিক মাসের দীপান্বিতা কালীপূজাকে কেন্দ্র করেই এখানে সবচেয়ে বড় উৎসব ও মেলার আয়োজন হয়। এছাড়া মন্দিরের পূর্বদিকে অবস্থিত কালীকুন্ড' নামের পুকুরটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মনে ভক্তি ও বিশ্বাস রয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের মনস্কামনা পূরণের আশায় এই পাতালভেদী দেবীর মন্দিরে ভিড় জমান

×
  • CTVN