Calcutta Television Network

মৃৎকুম্ভে কৌরবদের জন্ম ও আধুনিক টেস্ট টিউব বেবির ধারণা,কোথাও কি মিলে যায়?

মৃৎকুম্ভে কৌরবদের জন্ম ও আধুনিক টেস্ট টিউব বেবির ধারণা,কোথাও কি মিলে যায়?

8 September 2026 , 05:46:55 pm

মহাভারত নিছকই মহাকাব্য নাকি সত্যিই ঘটে যাওয়া কোনও ইতিহাস, এই প্রসঙ্গ তর্কাতীত। তবে হাজার হাজার বছর আগে রচিত ব্যাসদেবের মহাভারত কেবল যে একটি মহাকাব্য নয়, বরং এটি প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের এমন এক কল্পবিজ্ঞানের ভাণ্ডার যার সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বা বেশ কিছু আধুনিক আবিস্কারকে তুলনা করলে চমকে যেতে হয় আমাদের। প্রথমেই বলে রাখা ভালো, নিচে আলোচিত ঘটনাগুলি নিছকই কল্পবিজ্ঞানের উপরে ভিত্তি করে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাথে ক্ষেত্র বিশেষে মিল থাকলেও জোর দিয়ে কখনই বলা যায় না, চিকিৎসা বিজ্ঞানের সূত্রপাত সেই সময় থেকেই হয়েছিল। সেরকমই মহাভারতের আদিপর্বে বর্ণিত গান্ধারীর একশত এক সন্তানের জন্মকে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের টেস্ট টিউব বেবির সাথে তুলনা টানছেন অনেকেই। 


ধৃতরাষ্ট্র জায়া গান্ধারী গর্ভবতী হলেও, বছর দুই অতিবাহিত হয়ে গেলে, সন্তানের জন্ম হয়না। শেষে অত্যন্ত ক্রোধে গান্ধারী নিজের উদরে আঘাত করলে তাঁর গর্ভপাত হয়ে যায়। সেই মুহূর্তে ব্যাসদেব এসে গেলে, সেই মাংসপিন্ডটি নিয়ে, তাকে ১০১ টি ভাগ করেন। সেই ভাগ গুলি তিনি ঘৃতপূর্ন কুম্ভের মধ্যে রেখে, মুখ বন্ধ করে ঝুলিয়ে রাখেন। ১০ মাস বাদে সেখান থেকে জন্ম হয়ে দুর্যোধন, দুঃশাসন, দুঃশলা সহ ১০১ শত সন্তানের। 

এই গোটা ঘটনাটিকে যদি আমরা খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি তাহলে এই ঘৃতপূর্ণ কুম্ভে কৌরবদের জন্ম বর্তমানের টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম, দুটোই আপাত দৃষ্টিতে একই। সে হিসাবে ব্যাসদেবকে পৃথিবীর প্রথম 'ভ্রূণবিজ্ঞানী' বা এমব্রায়োলজিস্ট বলা ভুল হবে না। আজকের যুগে টেস্ট টিউব বেবি বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) পদ্ধতিতে ঠিক এই কাজটিই করা হয়। ল্যাবরেটরির ভেতরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনে যে ভ্রূণ তৈরি হয়, তা প্রাথমিক অবস্থায় একটি কোষ বা মাংসপিণ্ডই থাকে। ল্যাবে সেই ভ্রূণকে কৃত্রিমভাবে বিভাজন (Embryo Splitting) করা সম্ভব, যা থেকে ক্লোন বা একাধিক যমজ সন্তান তৈরি করা যায়। গান্ধারীর গল্পে ঘি-ভর্তি মাটির পাত্রগুলো আসলে ছিল একেকটি কৃত্রিম জরায়ু (Artificial Womb) বা আজকের ল্যাবরেটরির 'ইনকিউবেটর'। জরায়ুর বাইরে মানব ভ্রূণকে বাঁচিয়ে রাখা এবং পুষ্টি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশুতে পরিণত করার যে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'এক্টোজেনেসিস' (Ectogenesis) বলা হয়, মহাভারতে কৌরবদের জন্ম ছিল ঠিক তেমনই এক প্রক্রিয়া। 

.

প্রাচীনকালের আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনও ধারণাই ছিল না । তা সত্ত্বেও কাহিনী অনুযায়ী ব্যাসদেব তার সময়ে উপলব্ধ প্রযুক্তি, শীতল জল, ঘি এবং মাটির পাত্র ব্যবহার করে ভ্রূণকে বাঁচিয়ে রাখার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্ম কিন্ত এই ভারতেই হয়েছিল, শৈল্য চিকিৎসা সহ বেশ কিছু চিকিৎসার রূপরেখা দিয়ে গিয়েছিলেন সুশ্রুত। সেই দিক থেকে বিচার করলে, গান্ধারীর এই কাহিনি কোথাও না কোথাও প্রমাণ করে যে, মানবদেহের বাইরে ল্যাবরেটরিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার যে বিজ্ঞান আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বাস্তব রূপ দিচ্ছেন, সেই ভাবনার বীজ হাজার বছর আগেই ভারতীয় মণীষীদের মাথায় অঙ্কুরিত হয়েছিল। হতেই পারে, রূপক বা আধ্যাত্মিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই প্রাচীন ঘটনাটি আসলে আধুনিক টেস্ট টিউব বেবি প্রযুক্তিরই এক আদিম ও দূরদর্শী রূপরেখা।    

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN