'বিল্ববৃক্ষের নিচে পাতিয়া বোধন, গণেশের কল্যাণে গৌরীর আগমন', আজ ষষ্ঠী, বিল্ববৃক্ষের সন্ধ্যাবেলায় বেলগাছের তলায় ঘট পেতে হয় মায়ের আবাহন। নিয়ম মত আজ থেকেই শুরু হয়ে যায় পূজা। কিন্তু অন্য পূজার ক্ষেত্রে বোধনের প্রয়োজন না হলেও দুর্গাপূজায় বোধনের কেন এত গুরুত্ব?
পঞ্জিকা মতে একটা গোটা বছরের দুটো ভাগ, উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ন। এই দক্ষিণায়নের সময় দেবতারা নিদ্রিত থাকেন। আষাঢ় মাস থেকে নভেম্বরের এই সময়টাকে তাই অকাল বলা হয়। স্বর্গের গোটা একদিন, পৃথিবীর এক বছরের সমান এবং এই দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত্রিকাল। যেহেতু এই সময়টা অকাল, তাই মা কে জাগ্রত করার জন্য বোধন কর্তব্য।
শাস্ত্রমতে, একটি বোধন হয় মহালয়ার আগে কৃষ্ণানবমীতে আর একটি ষষ্ঠীতিথিতে। বহু পুরানো রাজবাড়ী বা অনেক পুরানো বারোয়ারি পূজার বোধন আচার মেনে কৃষ্ণানবমীতে হয়ে থাকে। ষষ্ঠীর দিন সকালে কল্পারম্ভ করা হয় অর্থাৎ মা-কে জানানো হয় আমি আজ থেকে নবমী পর্যন্ত তোমার পূজা করবো। এরপর সন্ধ্যাবেলায় শুরু হয় বোধনের পূজা। দেবী মৃন্ময়ী থেকে হয়ে ওঠেন চিন্ময়ী।
কৃত্তিবাসী রামায়ণে এই অকাল বোধনের উল্লেখ পাওয়া যায়। দুর্গাপূজার আসল সময় বসন্তকালে যাকে আমরা বাসন্তীপূজা বলে জানি। রাজা সুরথ বসন্তকালে দুর্গাপূজার সূচনা করেন। কিন্তু রামায়ণ অনুযায়ী রাবণকে বধ করার হেতু শ্রীরামচন্দ্র দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। শ্রীরামচন্দ্র যেহেতু দেবীর নিদ্রা ভঙ্গ করেছিলেন তাই বলা হয় 'অকালবোধন', শুরু হয় অশুভর বিনাশে শুভর সূচনা।