আরব সাগরের তীরে মায়ানগরী মুম্বাই, গণেশ পূজার জন্য বিখ্যাত মহারাষ্ট্রের রাজধানী। এই মাসখানেক আগেই উৎসব শেষ করে উঠেছে শহর। কিন্তু আরব সাগরের পাড়ে এখন পুজো পুজো গন্ধ। হ্যাঁ হয়তো কাশফুল নেই, নেই কলকাতা বা বাংলার মত সেই আমেজ কিন্তু তাই বলে শহর মুম্বাই কিন্তু পিছিয়ে নেই। প্রবাসে থাকা বাঙালিরাও কোমর বেঁধেছে পূজার আমেজকে চুটিয়ে উপভোগ করার জন্য। কর্মব্যস্ত মুম্বাই শহর আশ্বিনের শারদপ্রাতে রূপ নেয় এক টুকরো মিনি কলকাতায়।
বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়ের দুর্গাপূজার ইতিহাস কিন্তু বেশ প্রাচীন। ১৯২২ সালে শিবাজী পার্কের বেঙ্গল ক্লাবে মুম্বাইয়ের প্রথম দুর্গাপূজা হয়। এরপর ১৯৩০ সালে বোম্বে দুর্গাবাড়ি সমিতিতে শুরু হয় দুর্গাপূজা যা বাণিজ্যনগরীর পুরানো পুজোগুলির একটি। নর্থ বম্বে সর্বজনীন, লোখান্ডওয়ালা দুর্গোৎসব, পওয়াই বেঙ্গলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, নভি মুম্বাই বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন সহ আরো ছোট বড় পূজা হয়ে থাকে। তবে বলিউড তারকাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মুম্বাইয়ের পূজাকে কিন্তু ভিন্ন মাত্রা দেয়। মুম্বাইয়ের বিখ্যাত পূজার মধ্যে অন্যতম নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গোৎসব, যা মুখার্জি বাড়ির পূজা নামে পরিচিত। কাজল, রানী মুখার্জি ও অয়ন মুখার্জির মতো বলিউড তারকারা এখানে নিজ হাতে অতিথিদের ভোগ পরিবেশন করেন। পূজার পাঁচদিন তাঁরা এখানেই কাটান। এরপরেই নাম আসে বান্দ্রার লিঙ্কিং রোডের পুজো, গায়ক অভিজিতের লোখন্ডওয়ালা দুর্গোৎসব এবং মুম্বাইয়ের সবচেয়ে পুরোনো তেজপাল হলের পূজা। তবে থিমের চাকচিক্যের চেয়ে এখানে সনাতনী ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
কলকাতার মতো মুম্বাইয়ের পূজাতেও খাওয়া-দাওয়া কিন্তু মস্ত বড় আকর্ষণ। মণ্ডপগুলোর আশেপাশে থাকে ফুড স্টল। যেখানে বাঙালির খাঁটি ইলিশ ভাপা থেকে শুরু করে কষা মাংস, লুচি, বিরিয়ানি মায় কলকাতার ফুচকা-ঝালমুড়ির স্বাদ নিতে ভিড় জমান হাজারো মানুষ। শুধু বাঙালিরাই নন, মারাঠি, গুজরাটিসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও এই দিনগুলোতে মেতে ওঠেন আনন্দের উৎসবে। নবরাত্রির ডান্ডিয়া আর দুর্গাপূজার ধুনুচি নাচ, কোথাও যেন মিশে যায় দুই সংস্কৃতি। যারা এই পাঁচটাদিন ঘরে ফিরতে পারেননা, তারা ঢাকের আওয়াজ, শঙ্খধ্বনি, আর মন্ত্রপাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে মুম্বাইয়ের মধ্যেই নিজের ঘর খুঁজে নেন। দশমীর সিঁদুর খেলা আর মিষ্টি মুখের মধ্য দিয়ে অশ্রুসজল চোখে মাকে বিদায় দেওয়ার সময় "আসছে বছর আবার হবে" ভেসে আসে তখন বোধহয় বাংলা আর মহারাষ্ট্র কোথাও গিয়ে এক হয়ে যায়।