Calcutta Television Network

কত কথা বলা হল না প্রিয়!

কত কথা বলা হল না প্রিয়!

31 August 2026 , 06:53:50 pm

কফি হাউজ, বাইরে বৃষ্টি আর মেঘে ঢেকে সূয্যিমামা অস্ত যাচ্ছেন। দুটো কফি নিয়ে টেবিলে বসে তিস্তা আর অনীক। দীর্ঘ দুবছরের সম্পর্ক ওদের, আজ শেষবারের জন্য দেখা করতে আসা। একসময়ের 'মিস্টার এন্ড মিসেস পারফেক্ট' সিদ্ধান্ত নিয়েই সম্পর্কে ইস্তফা দিচ্ছে। ওদের দুজনের প্রিয় জায়গা কফিহাউজের এই জানলার কাছে থাকা টেবিলটা। শেষ বারের জন্য তিস্তার হাতটা শক্ত করে ধরল অনীক, চোখে জল তিস্তারও। আর হয়ত কখনো এই হাতটা ছুঁয়ে যাবেনা ওকে। বাইরে বেরিয়ে শক্ত করে শেষ বারের জন্য তিস্তা জড়িয়ে ধরল অনীককে। অনীকেরও ঝাপসা চোখেই আড়াল হয়ে গেল তিস্তা। ওদের যে এখনও রাতের ময়দানে ছাতিমের গন্ধ নেওয়া বাকি ছিল.....

সম্পর্কের শেষ বা 'ব্রেকআপ', চোখে হারানোর মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চক্ষুশূল হয়ে ওঠে কখনও। ফলে সম্পর্কের শেষ করা ছাড়া সত্যিই আর কোনো উপায় থাকে না। আমরা সব সম্পর্কের সুখী পরিণতি চাই, কিন্তু সবসময় সব সম্পর্ক সুখ নিয়ে আসবে, আপাত দৃষ্টিতে সেটা ভাবা ভুল। তাহলে সম্পর্কের শেষ কি শুধুই জীবন থেকে কেড়ে নেয়? নাকি আমাদের জীবন করে তোলে আরও পরিণত ও বাস্তববাদী। মানুষ অভ্যাসের দাস, একজন মানুষের সাথে থাকতে থাকতে, তার স্বভাব, আচরণ, ভালোলাগা, কথা সব কিছুকে আমরা করে ফেলি নিজেদের বসতবাটি। আর হঠাৎ করেই যদি এই অভ্যাসে ছেদ পড়ে, নিজেদের দিশেহারা লাগে। কিন্তু পরিস্থিতি কখনও কখনও সম্পর্কের শেষ করতে বাধ্য করে। ভালবাসার সম্পর্ক যখন ক্রমশ খারাপের দিকে যেতে শুরু করে, তার চরম পরিণতি হয় ব্রেক আপ। আর সেই পরিস্থিতির সাথে আমরা আদৌ খাপ খাওয়াতে পারবো কি না ভেবেই ভয় কাজ করে।  তবে মনোবিদদের মতে এসব কিছুই অত্যন্ত সাময়িক, এবং সম্পর্কের বিচ্ছেদ খুলে দেয়  জীবনের নতুন কিছু দিক।

যখন আমরা কারোর সাথে সম্পর্কে থাকি, ওই মূহুর্তে সবচেয়ে বেশি ভরসা করি সেই মানুষটাকে। অনেক সময় আমরা নিজেদের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলি।  ফলে শুরু হয় নিজের মনের মধ্যে দ্বন্দ্ব। বিচ্ছেদের পর ফের আস্তে আস্তে আমরা নিজেদের সিদ্ধান্ত, ইচ্ছে বা ভালোলাগাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করি। সঙ্গীর সব অভ্যেসের সঙ্গে নিজের স্বভাবের সামঞ্জস্য আছে দেখলেই তা স্থায়ী হবে ভেবে ভুল করেন অনেকেই। কিন্তু এটা সাময়িক, পরিস্থিতি অনেক সময় সঙ্গীর সেই না দেখা দিকটা আমাদের সামনে নিয়ে আসে। ফলে এটা ভালো মতোই বোঝা যায়, মিস্টার এন্ড মিসেস পারফেক্ট বলে কিছুই হয়না। পরিস্থিতি মানুষকে বদলাতে বাধ্য করে। একা হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমরা অনেক তিক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনা। যেখানে প্রতিনিয়ত অশান্তি, খারাপ লাগা জমা হচ্ছে  সেখানে শুধু  একা হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমরা সেই সম্পর্ককে টেনে নিয়ে যাই। বিচ্ছেদ কিন্তু এই সময় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোনো একটা স্টেবেল সম্পর্কে থাকাকালীন তৃতীয় ব্যক্তি জীবনে আসবে না, এত ভাবা একদম ই ভুল। অনেক সময় আমরা ধরেই নিই, সঙ্গীর সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক বজায় রাখলে কোনও ফাঁক গলে তৃতীয় কেউ আসতে পারে না। এই ধারণা সব সময় ঠিক নয়। মনোবিদদের মতে মানুষ পলিগ্যামি। সেক্ষেত্রে সুষ্ঠ বিচ্ছেদ, দুটো মানুষের মধ্যে  তিক্ততা কম করতে পারে। 

গীতার বাণী কে ধরলে এ জীবনে স্থায়ী নয় কোনো কিছুই। সম্পর্ক হোক বা মানুষ, ঠিক যতটা পথ চলার, ততটুকুই থাকবে। সব কিছুর পরেও আমাদের গলার কাছটা দলা পাকিয়ে আসে, হয়তো মাঝরাতে ভিজে যায় বালিশ। আর ফোনের প্লে লিস্টে চলতে থাকে, 'কত কথা বলা হল না প্রিয়।' 

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN