Calcutta Television Network

মুক্তকেশী দেবীকে শ্রীরামকৃষ্ণ ভালোবেসে 'মাসি' বলে সম্বোধন করতেন!

মুক্তকেশী দেবীকে শ্রীরামকৃষ্ণ ভালোবেসে 'মাসি' বলে সম্বোধন করতেন!
14 September 2026 06:13:11 pm

দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দিরের কোলাহল ছাড়িয়ে উত্তর দিকে গেলেই, আড়িয়াদহের ঘাটের কাছে শান্ত, নিভৃত পরিবেশে অবস্থিত এই মুক্তকেশী কালী মন্দির। উত্তর চব্বিশ পরগনার এই প্রাচীন মন্দিরটি  ভক্ত ও ইতিহাস প্রেমীদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ন। ছোট্ট এই মন্দিরটির পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বঙ্গদেশের প্রাচীন তান্ত্রিক সাধনার ইতিহাস এবং শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনের বহু অমূল্য স্মৃতি। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, শ্রীচৈতন্যদেবের সমসাময়িক বা তারও আগের যুগ থেকে আড়িয়াদহের এই শ্মশান অঞ্চলটি ছিল তান্ত্রিক সাধকদের বদ্ধভূমি । লোকচক্ষুর আড়ালে গঙ্গার তীরে গভীর অরণ্যবেষ্টিত এই নির্জন স্থানেই একসময় মুক্তকেশী মায়ের আরাধনা শুরু হয়।

 

বর্তমান মন্দিরটি একটি সমতল ছাদবিশিষ্ট দালান স্থাপত্য, যার গর্ভগৃহটি দক্ষিণমুখী হলেও প্রধান প্রবেশদ্বার পশ্চিমমুখী। মন্দিরের ঠিক সামনেই বয়ে চলেছে ভাগীরথী গঙ্গা, যার মৃদু হাওয়া আর শান্ত স্রোত মন্দিরের প্রাঙ্গণে প্রশান্তিময় পরিবেশের তৈরী করে। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনের সঙ্গে এই মন্দিরের যোগ রয়েছে গভীরভাবে। দক্ষিণেশ্বরে অবস্থান কালে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ প্রায়শই হেঁটে এই মুক্তকেশী মন্দিরে আসতেন। দেবী মুক্তকেশীর রূপকে তিনি এতটাই আপন করে নিয়েছিলেন যে, ভবতারিণীকে 'মা' এবং মুক্তকেশী দেবীকে তিনি ভালোবেসে 'মাসি' বলে সম্বোধন করতেন। মায়ের মন্দিরে এসে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাবাবিষ্ট হয়ে থাকতেন।  লোকশ্রুতি রয়েছে, শ্রীরামকৃষ্ণের জননী চন্দ্রমণি দেবীর শেষকৃত্যও এই মুক্তকেশী মন্দির সংলগ্ন পবিত্র গঙ্গাতীরের শ্মশানে সম্পন্ন হয়েছিল।


বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে, এই 'মুক্তকেশী কালী বাড়ি' স্থাপিত হয়েছিল ১২৪৭ সনে। বর্তমানে এই মন্দিরের বয়স ১৮৫ বছর।মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে কষ্টি পাথরের তৈরি দেবী মুক্তকেশীর মূর্তি। চতুর্ভুজা এই দেবীর একহাতে খড়্গ, অন্যহাতে অসুরের ছিন্নমুণ্ড, আর বাকি দুই হাতে ভক্তদের জন্য অভয় ও বরমুদ্রা। দেবীর এই রূপ যেমন সংহার রূপের প্রতীক, তেমনই তাঁর চোখ দুটিতে রয়েছে মাতৃসুলভ বাৎসল্য। প্রাচীন নিয়ম মেনে আজও এখানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিত্যপূজা সম্পন্ন হয়। কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যায় অর্থাৎ কালীপুজোর দিন এই মন্দিরে বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত মায়ের চরণে পুজো দিতে আসেন একদা শ্রীরামকৃষ্ণের পদধূলি ধন্য এই পুণ্যভূমিতে।

×
  • CTVN