Calcutta Television Network

দশদিক আলো করে ৪৮ মিনিটের সন্ধিক্ষণ, সন্ধিপূজার তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য

দশদিক আলো করে ৪৮ মিনিটের সন্ধিক্ষণ, সন্ধিপূজার তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য
15 October 2026 06:35:46 pm

দুর্গাপূজায় অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট আর নবমী তিথির শুরুর ২৪ মিনিট, মোট এই ৪৮ মিনিটের সময়কালকেই বলা হয় সন্ধিক্ষণ। আর এই সন্ধিক্ষণেই সম্পন্ন হয় দুর্গা মহাপূজার বিশেষ একটি আচার সন্ধিপূজা। সন্ধিপূজার এই কালটুকু আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের মহা সন্ধিক্ষণ। ষষ্ঠীর বোধন থেকে দশমীর বিসর্জন এই পূজার প্রতিটা পর্বের সমান গুরুত্ব থাকলেও সন্ধিপূজা তার নিজস্ব গাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবহে সর্বোত্তম হয়ে রয়েছে। 

তবে এই পূজার মাহাত্ম্য নিয়ে নানা মুনির নানা মত, শাস্ত্রগত ভেদ-ও দেখা যায়। পুরাণ মতে দেবী দুর্গা, চণ্ড ও মুণ্ড-কে বধ করার জন্য চামুণ্ডার রূপ ধারণ করেন। দেবী চামুণ্ডা অত্যন্ত উগ্র। সন্ধিপূজার সময় চামুণ্ডার ধ্যান মন্ত্রেই দেবীর পূজা করা হয়। কথিত আছে এসময় নাকি মায়ের চোখের দিকে তাকাতে নেই। মা এই সময় হয়ে ওঠেন মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী। 


কৃত্তিবাসী রামায়ণে যে অকালবোধনের উল্লেখ আছে, তার মত অনুযায়ী এই সময়েই, শ্রীরাম রাবণ বধের নিমিত্ত দেবী দুর্গার আবাহন শুরু করেন। সন্ধিপূজার প্রধান আকর্ষণ হলো এর জাঁকজমকপূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান। এই পূজায় দেবীর চরণে নিবেদন করার জন্য হনুমানকে ১০৮টি পদ্ম নিয়ে আস্তে বলা হয়। কিন্তু হনুমান সরোবর থেকে ১০৭ টি পদ্ম নিয়ে আসে, একটি পদ্ম কম পড়ে। রামায়ণ অনুযায়ী, দেবী শ্রীরামচন্দ্রের ভক্তি পরীক্ষা করতে একটি পদ্ম লুকিয়ে ফেলেন। তখন শ্রীরামচন্দ্র তাঁর নিজের পদ্মতুল্য চোখ উপড়ে দেবীর চরণে সমর্পণ করতে উদ্যত হলে দেবী সন্তুষ্ট হয়ে আবির্ভূত হন। সেই ধারা সাথে নিয়েই আজও সন্ধিপূজায়  ১০৮টি পদ্ম দেবীর চরণে অর্ঘ্য হিসেবে শোভা পায়।

পুরোহিতের গম্ভীর মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ-ধুনোর সুবাস এবং কাঁসর-ঘণ্টার শব্দের সাথে যখন ঢাকের আওয়াজ পূজা মণ্ডপে এক অন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করে। এখনো বাংলার অনেক রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়িগুলোতে সন্ধিক্ষণ ঘোষণার জন্য কামান দাগার বা বন্দুক ছোড়ার রেওয়াজ রয়েছে। এই সময়ে হয় নবমী দণ্ডে বলিদান। পশু বলির রীতি থাকলেও এখন তার পরিবর্তে কুমড়ো বা আখ বলি দেওয়ার মাধ্যমে আসুরিক প্রবৃত্তির বিনাশের প্রতীকী আচার পালন করা হয়।


বলা হয় সন্ধিপূজা দর্শন করলে কয়েক জন্মের পাপ বিনষ্ট হয়। তবে মানুষের মনের অন্ধকার, অহংকার ও কলুষতাকে দূর করে আলোর পথে যাত্রা, এই পূজার তাৎপর্য। ঢাকের আওয়াজ আর প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় এই ৪৮ মিনিট অন্যায়ের বিনাশ এবং সত্যের জয়ের মুহূর্ত।     

×
  • CTVN