আজ ষষ্ঠী,শরৎকালীন বার্ষিক দুর্গাপূজার সূচনা হয় এই তিথি থেকেই, চলে টানা দশমীর ঘটে বিসর্জন পর্যন্ত। ষষ্ঠী তিথিতে চারটি মূল আচার-কল্পারম্ভ, বোধন, আমন্ত্রণ এবং অধিবাস সম্পন্ন করা হয়। বাহ্যিকভাবে এগুলি নিয়ম বা আচার মনে হলেও, এই সমস্ত আচারের রয়েছে গভীর তাৎপর্য।
ষষ্ঠীর সকালে করা হয় কল্পারম্ভ, ‘কল্প’ অর্থে সংকল্প এবং ‘আরম্ভ’ মানে শুরু। ষষ্ঠীর সকালে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক সংকল্প করা হয়, হে দেবী! ষষ্ঠী তিথি থেকে নবমী পর্যন্ত আমি আপনার পূজার সংকল্প করছি। এই সংকল্প মানব মনের একাগ্রতার প্রতীক। নিজের ভেতরের সমস্ত নেতিবাচকতা দূর করে দেবীর চরণে আত্মনিবেদনের দৃঢ় মানসিক প্রস্তুতিই হলো কল্পারম্ভ।
এর পরে সন্ধ্যায় বেলতলায় অনুষ্ঠিত হয় বোধন, ‘বোধন’ অর্থে জাগরণ। শরৎকাল দেবতাদের নিদ্রার সময়, আর অকাল বোধনের মাধ্যমে দেবীকে জাগ্রত করা হয়। আধ্যাত্মিক অর্থে, এটি মানুষের সুপ্ত চেতনা ও বিবেককে জাগিয়ে তোলা প্রতীক। অশুভকে বিনাশ করে শুভর আবাহন করা বোধনের তাৎপর্য।
বোধনের পর দেবীকে ‘আমন্ত্রণ’ জানানো হয়। ভক্ত তাঁর হৃদয়ে দেবীর আসন প্রস্তুত করে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। এটি অহংকার ত্যাগের প্রতীক এবং ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পনের মাধ্যম। সব শেষে হয়’। সুগন্ধি, চন্দন, ধান, দূর্বা, মাটিসহ ২২টি মাঙ্গলিক দ্রব্য স্পর্শ করিয়ে দেবীকে বরণ করা হয়। এর আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য হল শুদ্ধিকরণ। শুদ্ধ উপাদানের স্পর্শে মন ও পরিবেশকে পবিত্র করে দেবীর দিব্য শক্তিকে ধারণ করার উপযুক্ত করে তোলাই অধিবাসের মূল লক্ষ্য।