Calcutta Television Network

"যে প্রেমিক প্রেম পেয়েছে , অষ্টমীতে ঘুরবে সেজে রাখছে ফাঁকা, যে প্রেমে লেঙ্গি খেয়ে থাকছে একা, জমিয়ে অনুরাগ"

"যে প্রেমিক প্রেম পেয়েছে , অষ্টমীতে ঘুরবে সেজে রাখছে ফাঁকা, যে প্রেমে লেঙ্গি খেয়ে থাকছে একা, জমিয়ে অনুরাগ"
12 October 2026 • 03:30:59 pm

আজ দ্বিতীয়া, শহর মোটামুটি কোমর বাঁধছে উৎসবের জন্য। কুমোরপাড়া ছেড়ে মা-ও চলেছেন মণ্ডপে মণ্ডপে। কারোর লাস্ট মিনিট শপিং বা কারোর বাকেট লিস্টে চোখ বুলিয়ে নেওয়া, কিচ্ছু যেন বাকি না থাকে। সকালের রোদে বেশ তেজ থাকলেও, সন্ধ্যে নামার সাথে সাথেই হালকা ঠান্ডার পশম জড়িয়ে ফেলছে বাংলা। পেঁজা তুলোর মেঘ বা কাশ ফুল যাই থাক না কেন, দুর্গাপূজা বাঙালির জীবনে বসন্ত নিয়ে আসে। আরে না, ভুল ভাববেন না, বসন্ত তো সেই মার্চ মাসেই আসে, এ ঠিক সেই বসন্ত না। আসলে বসন্ত আসে মনে, দুর্গাপূজা শুধু যে একটা উৎসব নয়, বলতেই পারেন গোটা একটা গ্যালাক্সি। সেই মা-র কাছে প্রার্থনা করে রেখেছিলেন মনে আছে?? "মা, কাউকে একটা জুটিয়ে দিও", জোটেনি তো? আরে ঘাবড়াবেন না, আজ সবে দ্বিতীয়া। দেখুন না, মা চাইলে অষ্টমী তে আপনারাই দুজনে একসাথে অঞ্জলি দেবেন। ততক্ষন লাস্ট মিনিট মাঞ্জাটা মেরে নিন!   

এবার আপনি যদি মিঙ্গেল হন তাহলে তো মোটামুটি ঠিকই আছে, পার্টনারের সাথে টিউনিং কি করবেন, কবে কোথায় যাবেন, কি খাবেন? সবই মোটামুটি রেডি। কিন্তু 'যে প্রেমে লেঙ্গি খেয়ে থাকছে একা, জমিয়ে অনুরাগ' তার কী হবে? সারা বছর যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সিঙ্গেল লাইফ ইজ বেস্ট’ বুক চওড়া করেন, মহালয়ার ভোর হতেই তাদেরও মনে হয়, 'যদি কেউ থাকতো।' এই তো সুযোগ, পুজোর চারটে দিন কলকাতার প্রতিটি মণ্ডপ, রাস্তা, গলি সব হয়ে ওঠে ‘টিন্ডার’ বা ‘বাম্বল’, শুধু সোয়াইপ করার দরকার পড়ে না, চোখের পলক ফেলাই যথেষ্ট! আজকাল চতুর্থী-পঞ্চমী থেকে পূজা শুরু হয়ে গেলেও, জমজমাটি ব্যাপারটা কিন্তু আসে মায়ের বোধনের পরেই। বোধন কমপ্লিট, হাতে হাত ধরে বেরিয়ে পরা। সেদিন শুধুই উত্তর কলকাতা, পাঞ্জাবি আর শাড়ির টিউনিং, ফোসকা ধরা গোড়ালি, ক্লান্ত শরীর। ভোর বেলা বাড়ি ফেরার সময় আইসক্রিম আর আলতো হাতের ছোঁয়া, এই তো সপ্তমীর ভোর। আর যদি সিঙ্গেল হন আপনি, আজকের দিনটাও রেস্ট নিন মশাই, না হলে উঠে যান, পাড়ার ক্লাবে আপনাকে দরকার হতে পারে। 


সপ্তমী তো না হয় কাটলো, কারোর জোড়ায়, কারোর বন্ধুদের সাথে আবার কারোর ঘরে ঘুমিয়ে। কিন্তু আজ যে অষ্টমী, অঞ্জলি শেষ হলেই উৎসবের হাফ বেলা শেষ। তবে যাই বলুন পাঞ্জাবি আর শাড়ির চিরাচরিত কম্বিনেশনে চেনা মানুষগুলোকেও কেমন অচেনা, সুন্দর লাগে। অঞ্জলি দেওয়ার সময় পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের ফাঁকে এক চোখ বন্ধ রেখে, অন্য চোখে ভিড়ের মধ্যে সেই বিশেষ কাউকে খোঁজার যে রোমাঞ্চ, তার কাছে বিশ্বের সব ডেটিং অ্যাপ-ই ফেল। অঞ্জলি শেষে মায়ের কাছে চোখ বন্ধ করে ফের বলে ওঠেন "হে মা দুর্গা, ও যেন আমার হয়ে যায়!" এবার নবমী, উৎসবের অন্তিম লগ্ন। আজ পাড়ার ক্লাবে নইলে ম্যাডক্স। ধুনোর ধোঁয়া, ঢাক আর কাঁসরের আওয়াজ, প্রিয় মানুষটি দুর্দান্ত ধুনুচি নাচ জুড়ে দিয়েছে।  ধোঁয়ায় চোখ জ্বলছে, তাও চোখের পাতা ফেলা বারণ! কারণ, ওই ধোঁয়ার ওপারেই কোমর দুলিয়ে চলেছেনআপনার ক্রাশ। ভিড়ের মধ্যে গুঁতো-গাতা  খেতে খেতেও সেই বিশেষ মানুষের দিকে তাকিয়ে একটু মৃদু হাসার চেষ্টা করা, এই তো রোম্যান্সের ক্লাইম্যাক্স।

চার দিনের এই ভালোলাগা, চোখাচোখি, আর চোর-পুলিশ খেলার মেয়াদ কিন্তু বড্ড কম। দশমীর সিঁদুর খেলা আর ভাসানের ঢাকের আওয়াজের সাথে সাথে এই ক্রাশ স্টোরি থুড়ি লাভ স্টোরিরও দ্যা এন্ড। যে মানুষটার জন্য চার দিন ধরে চাতক পাখির মতো ঘুরে বেড়ানো হলো, দশমীর রাতে ট্রাফিকের ভিড়ে সে হয়তো চিরকালের মতো হারিয়ে যায়। নাম জানা হলো না, ইনস্টাগ্রাম আইডিও খোঁজা হলো না, শুধু রয়ে গেল কিছু মিষ্টি স্মৃতি। পূজা শেষ, আবার সেই চেনা রুটিন, চেনা ফর্মাল জামাকাপড় আর একঘেয়ে জীবন। তবে বাঙালির মন তো, বড্ড আশাবাদী! "আসছে বছর আবার হবে", আর মা দুর্গার সাথে সাথে আগামী বছর নতুন কোনো ক্রাশ মণ্ডপে আবার ফিরে আসবে বা একটা নিয়ে আসবে একটা গোটা লাভ স্টোরি।