Calcutta Television Network

মহাভারতের যুদ্ধ কি আসলে একটি পারমাণবিক যুদ্ধ ছিল?

মহাভারতের যুদ্ধ কি আসলে একটি পারমাণবিক যুদ্ধ ছিল?

8 September 2026 , 01:50:39 pm

মহাভারত নিছকই মহাকাব্য নাকি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ কোনো এক সময় এই ভারতের বুকে হয়েছিল, এই প্রসঙ্গ তর্কাতীত। কিন্তু এই মহাকাব্যে থাকা বেশ কিছু ঘটনা আধুনিক বিজ্ঞানকে অবাক করে। সঞ্জয়ের দিব্য দৃষ্টি, গান্ধারীর শত পুত্র, যুদ্ধে ব্যবহৃত উড়ন্ত রথ বা ব্রহ্মাস্ত্র-র ব্যবহার অনেকাংশেই আধুনিক যুগের বেশ কিছু বিষয়ের সাথে অদ্ভুত ভাবে মিলে যায়। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, যখন পৃথিবীতে আধুনিক বিজ্ঞানের কোনও ধারণাই ছিল না, সেই সময়ে ঘটে চলা এই সমস্ত ঘটনার বিবরণ গবেষকদের অবাক করে। সেরকমই মহাভারত বা রামায়নের পাতায় বর্ণিত বেশ কিছু অস্ত্রের উল্লেখ আছে, যা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পারমাণবিক বোমার সমসাময়িক। ব্রহ্মাস্ত্র, নারায়ণ অস্ত্র, পাশুপত অস্ত্র, এদের বর্ণনা, ব্যবহার এবং তার পরের পরিস্থিতি হুবহু মিলে যায় আজকের দিনের নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণের সঙ্গে। তাহলে কি আজকের পারমাণবিক বোমার মূল তত্ত্ব এই ভারতের বুকেই রচনা হয়েছিল, হাজার হাজার বছর আগে! 

মহাভারতের দ্রোণ পর্ব ও সৌপ্তিক পর্বে বেশ কিছু অস্ত্রের বর্ণনা আছে। তার মধ্যে তিনটি অস্ত্র হল, ব্রহ্মাস্ত্র, নারায়ণ অস্ত্র ও পাশুপত অস্ত্র। ব্রহ্মাস্ত্র, সৃষ্টির আদি পিতা প্রজাপতি ব্রহ্মার পরম অস্ত্র। এই অস্ত্রের ব্যবহার মহাবিশ্বকে ধ্বংস করতে পারে। পারে এই সৃষ্টিকে ধ্বংস করতে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষ ভাগে অশ্বত্থামা একটি অস্ত্র প্রয়োগ করেছিলেন, সেটি ছিল ব্রহ্মশির অস্ত্র। চার ফলার এই অস্ত্র প্রজাপতি ব্রহ্মার মাথার প্রতীক। মহাভারতে বর্ণিত সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অস্ত্র, যা দেবতাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে সক্ষম। এর পরে যে অস্ত্রের বর্ণনা আমরা পাই, তা নারায়ণ অস্ত্র। ভগবান শ্রী বিষ্ণুর এই দিব্য অস্ত্রটি ব্যবহার করেছিলেন অশ্বত্থামা। তবে স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ, এই অস্ত্র থেকে বাঁচার উপায় জানতেন বলে পাণ্ডবদের সেভাবে কোনও ক্ষতি হয়নি। রামায়ণেও রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ নারায়ণাস্ত্রের অধিকারী ছিলেন। দেবাদিদেব মহাদেবের অস্ত্র পাশুপত অস্ত্র, মহাভারতে যে অস্ত্রের ব্যবহার করেছিলেন তৃতীয় পান্ডব অর্জুন। তবে এর শর্ত ছিল, কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই অস্ত্রের ব্যবহার বিনাশ করতে পারে সৃষ্টিকে। 

মহাভারত, রামায়ণ বা পুরাণে বর্ণিত এই সমস্ত অস্ত্র গুলির ব্যবহার বা তার ফলে হওয়া ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের সাথে আধুনিক যুগের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধর কৌশলগত মিল পাওয়া যায় আশ্চর্যজনক ভাবেই। ব্রহ্মাস্ত্রর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, এটি এমন এক অস্ত্র যা নিক্ষেপের পর "দশ হাজার সূর্যের উজ্জ্বলতা নিয়ে মহাবিশ্বকে আলোড়িত করে।" এর ফলে যে প্রলয়ংকরী ধোঁয়ার মেঘ তৈরি হয়, তা একটি বিশাল উন্মুক্ত ছাতার মতো, যা আধুনিক পারমাণবিক বিস্ফোরণের 'Mushroom Cloud'-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। মহাভারতের বর্ণনায়, এই সমস্ত অস্ত্র ব্যবহারের পরবর্তী প্রভাব ছিল আরও ভয়ঙ্কর। বর্ণনায় বলা আছে, অস্ত্রটি আঘাত হানার পর চারদিকের তাপমাত্রা চরম মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল, নদী ও জলাশয়ের জল ফুটতে শুরু করেছিল এবং যোদ্ধাদের শরীর মুহূর্তে ভস্মীভূত হয়ে যায়। যারা বেঁচে ছিল, তাদের চুল ও নখ খসে পড়তে শুরু করে, খাদ্য ও জল বিষাক্ত হয়ে যায় এবং গর্ভস্থ সন্তানরা মারা যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, এগুলো সবই তীব্র তেজস্ক্রিয়তা বা রেডিয়েশন বিষক্রিয়ার (Radiation Sickness)  লক্ষণ, যা ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু হামলার পর দেখা গিয়েছিল। এছাড়াও আধুনিক যুদ্ধগত কৌশল বিশ্লেষণ করলে এই অস্ত্র গুলির ছিল, আন্টি ম্যাটার বম্বিং সিস্টেম বা চরম মাত্রার থার্মো নিউক্লিয়ার ওয়েপন। এছাড়াও মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবেল রিএন্ট্রি ভেহিকেল, এবং শত্রুকে চিনে নিয়ে আক্রমণ করার ক্ষমতা যা আজকের দিনে এ আই ড্রিভেন টার্গেটিং সিস্টেম নামে পরিচত। 

গবেষকদের একাংশের মতে, মহাভারত বা পুরাণের বর্ণনাগুলো হয়ত প্রাচীন লেখকদের অতিমানবিক কল্পনা।  তবে এটাও সত্যি, মানব সভ্যতার ইতিহাস রৈখিক নয়, বরং চক্রাকার। হয়ত হতে পারে, প্রাচীন মানুষ আমাদের চেয়েও উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী ছিল, যা কোনও  এক মহাযুদ্ধে বা ভয়ঙ্কর দুর্যোগে ধ্বংস হয়ে যায়। মহাভারতের যুদ্ধ কি সত্যিই পারমাণবিক যুদ্ধ ছিল? এর শতভাগ সুনির্দিষ্ট উত্তর হয়তো এখনও মেলেনি। তবে প্রাচীন প্রযুক্তির এই রহস্য আজও আমাদের বাধ্য করে অতীতকে নতুন চোখে দেখতে।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN