Calcutta Television Network

নামে কী এসে যায়!

নামে কী এসে যায়!
12 September 2026 04:45:01 pm

মাস কয়েক আগের কথা,আমার খুব কাছের বান্ধবী এক কন্যা সন্তানের মা হয়ছে। শুধালাম, নাম কি রাখলি? সে বললে,"পারোঙ্গমা।" বিষম খেয়ে সামলে নিয়ে বললাম, "কি? পঙ্গোপাল?" সে বেশ ঝাঁঝিয়ে বললে, "এ নামের তুই কি বুঝবি? বিস্তর ঘাম ঝরিয়ে বের করেছি।" শুনে মনে মনেই বললাম "ফুরায়ে গেল উনিশ পিপা নস্য" গোছের ব্যাপার, কি সব নাম। আমি তো জানি, বড় হলে পারোঙ্গমা, হয় পঙ্গমা নয়ত পারো হয়ে কোনও দেবদাসের পেছনে ঘুরবে। নামে কি যায় আসে- এটা একটা মনিষী বচন, আবার যদি বলি নামের আমি নামের তুমি নাম দিয়ে যায় চেনা, সেটাও ফেলে দেওয়া যাবে না। তাই নাম, বিধি বাম। 

অরাম বা আইডিয়াল হাইটস্ এর বাসিন্দাদের মধ্যে গজানন চাকলাদার বা শ্যামাপদ গুছাইত কে খুঁজে পাবেন না, তেমনই বীরভূমের কোনও গ্রামে মণিজিঞ্জির দত্ত রায় বা কিটি বোস কে খুঁজে পাওয়া মুসকিল। বাংলা ব্যাক্তি নামের পাশে একটা শ্রেণী চরিত্র আছে, যেমন ধরুন, দেবাশীষ রায়, নামটা শুনলেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার-ই চোখে ফুটে ওঠে, কিন্তু রাখহরি বা থাকহরি নাম শুনলে ছবিটা পালটে যায়। আমার এক রকস্টার  বন্ধুর নাম হরিপদ চাকলাদার, ওর কাজের মান রাখতে ওকে আমরা হ্যারি বলে ডাকতাম। আবার এই নাম বিকৃত করে ডাকায় বাঙালীর জুড়ি মেলা ভার। বরুন হয়ে যায় বুচুন, নেপাল কখনও নেপা। পাড়ায় এক কাকা ছিলেন পানু বোস, একটা সময়ের পর এই নাম টা হাসাহাসির কারণ হয়ে উঠলো, অবশ্যি সেই কারণটা আর বললাম না। আবার কখনও কারোর স্বভাব বা প্রতিবন্ধকতাও নামের সাথে জুড়ে যায়, এই ধরুন ট্যারা বাবলু, খোড়া কাবলু, রংবাজ কালু, মাতাল পালু, হাতকাঁটা দিলীপ, রোমিও ফিলিপ। ২০০০ সাল থেকে ২০০৫-৬ পর্যন্ত অনেক সৌরভ, সুস্মিতা জন্মেছে, আবার এখন প্রচুর সম্প্রিতীরা জন্মাচ্ছে। আমাদের ঠাকুরদাদাদের আমলে নামের মধ্যপদে চরণ, ভূষন ইত্যাদি ঢুকে পড়ত, তেমনি বাবাদের সময় নামের মাঝেও প্রতিম, সারথী ছিল। মধ্যপদে অনেকেই আজও কুমার নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু বিয়ের পরে ছেলে মেয়ের বাবা হলে ব্যাপারটা ভেবে দেখার দরকার আছে ।

সময় চলিয়া যায়... তখনকার বানী বোস, আজ হলেন ফানি বোস। আজকাল কারোর কারোর নামের প্রথম চরণেই দেব, এই ধরুন দেবমুদ্রা, দেবতনু, দেবাঙ্কুর, দেবের বাইরে বেরোননি, কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখুন এরা সব্বাই পাক্কা নাস্তিক। আবার স্মার্টি বোস ঠিক ততটাও স্মার্ট না, কিন্তু রাখাল দাস বাবু ঝুপ করে এভারেষ্টের মাপ করে দিয়েছিলেন। নদীয়ার শান্তিচরণ মেমোরিয়াল স্কুলে, আয়েশা, মালা, দীপা, ছায়া, দুর্গা-কে এখনও পাওয়া গেলেও, লরেটো বা সেন্ট জেভিয়ার্সে তাদের পাওয়া দুঃসাধ্য। সেখানে শুধুই উদিতা, শায়েরি, শ্রেয়সী, সম্পূর্না, সৃজনীদের ছড়াছড়ি। কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ অফিসার, নাম ছিল রাজকুমার ঘোষাল। কিন্তু ডাক নামটি ছিল বড়ো বিদ্ঘুটে, নারকোল। তবে এই বিদঘুটে  নামের ইতিহাস আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার কর্মস্থলে নামের বদলে পদবীটাই পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। যেমন বিশ্বাসদা, ঘোষাল বাবু, মন্ডল বাবু-রা থেকে যান আজীবন। ছোট্টো একটা গল্প দিয়ে শেষ করি, আমার এক জামাইবাবু নাম বুল্টন, কেন জানি না মনে হতো ওটা কোনও সাংঘাতিক কুকুরের নাম, ঠিক এই কারণের জন্য আমি অনেক বছর তাঁর কাছে যাইনি, খালি মনে হতো যদি কামড়ে দেয়?

×
  • CTVN