মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সম্প্রতি ইরানের উপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে শিথিল করেছে। এই সাময়িক অনুমোদন ১৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ তৈরি করবে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুদ্ধজনিত অস্থিরতা ও পরিবহন সংকটের কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ছাড় দিতে হয়েছে।
ভারতের জন্য এটি একটি সম্ভাব্য সুযোগ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত সবসময় সস্তা ও নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে থাকে। ইরান অতীতে ভারতের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ছিল এবং বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল—যেমন দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, ছাড়কৃত পরিবহন খরচ। নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ২০১৯ সাল থেকে ইরানি তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। এখন এই সাময়িক ছাড় ভারতের জন্য আবারও ইরানি তেল আমদানির দরজা খুলে দিতে পারে।
তবে ঝুঁকিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি ইরানি তেল আমদানি করলে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, যদি ভারত সতর্কভাবে এগোয়, তবে বৈশ্বিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার ফলে পরোক্ষভাবে বড় সুবিধা পেতে পারে।
সুতরাং, এই ছাড় ভারতের জন্য একদিকে অর্থনৈতিক স্বস্তি, অন্যদিকে কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়—নয়াদিল্লি কি এই সুযোগ কাজে লাগাবে, নাকি সতর্ক দূরত্ব বজায় রাখবে।