৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার উপকূলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীর ফ্রিগেট IRIS Dena-কে টর্পেডো হামলায় ডুবিয়ে দেয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক জলে ইরানি যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তাহীনতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনার পরপরই পাকিস্তান-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক থেকে একটি সমন্বিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শুরু হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে অভিযুক্ত করা।
#IndiaBetraysIran হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রচার করা হয় যে ভারত নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি জাহাজের অবস্থান জানিয়েছিল। কিন্তু ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রচারণার মূল উৎস ছিল পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট @TacticalTribun, যা পূর্বেও ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে।
প্রচারণাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান-ভিত্তিক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে, এরপর ইরানপন্থী, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু নেটওয়ার্কে। প্রায় ১০০টিরও বেশি অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০০ পোস্ট করা হয়, যা কয়েক লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বিশ্লেষকরা এটিকে “হাইব্রিড ডিসইনফরমেশন অপারেশন” বলেছেন, যেখানে বাস্তব ব্যবহারকারীর আবেগকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিমভাবে প্রচারণা বাড়ানো হয়।
ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) এবং অন্যান্য ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা দ্রুত এই প্রচারণাকে ভুয়া বলে প্রমাণ করে। তারা দেখায় যে পাকিস্তান-সমর্থিত নেটওয়ার্ক বারবার একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে—ডিপফেক ভিডিও, পুরনো ফুটেজ পুনঃব্যবহার এবং ভুয়া বার্তা ছড়ানো। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারত-ইরান সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে তথ্যযুদ্ধ এখন আধুনিক ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। পাকিস্তানের প্রচেষ্টা স্বল্পস্থায়ী হলেও এটি দেখিয়েছে কীভাবে ভুয়া প্রচারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে আঘাত করতে পারে। ভারতের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও তথ্য যাচাই প্রচেষ্টা এই প্রচারণাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।