Calcutta Television Network

জ্বালানি সংঘাতের ধাক্কা: তেলের দাম আকাশছোঁয়া

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে উপসাগরীয় সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছুঁয়েছে। ইরানের হামলায় কাতারের রস লাফান LNG টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সৌদি আরবের ইয়ানবুতে বিঘ্ন ঘটেছে এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এর নিরাপত্তাহীনতা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সরাসরি আঘাত করছে।  

গালফ বেঞ্চমার্ক, বিশেষত ওমান ক্রুডের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১৬৬ ডলার ছাড়িয়েছে। সৌদি লাইট ক্রুড এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে লাল সাগর রুটে ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি দাম ১৫০ ডলার ছুঁতে পারে এবং চরম পরিস্থিতিতে ১৬৫ থেকে ১৮০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমনকি ২০২৬ সালে ২০০ ডলার ব্যারেলপ্রতি তেলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।  

এই মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনে চাপ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসের মধ্যে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ২.৯৩ ডলার থেকে বেড়ে ৩.৮৮ ডলার হয়েছে, ডিজেলের দাম ৫.১০ ডলার ছুঁয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি খরচ বাড়া মানে ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত করের মতো চাপ, যা অন্যান্য খাতে ব্যয় কমিয়ে দেয়।  

ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল। দেশটি প্রায় ৮৯ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, যা আগামী অর্থবছরে ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। SBI-এর হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি ৩০–৪০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ে। যদি দাম ১৫০–১৮০ ডলার পর্যন্ত ওঠে, তবে ঘাটতি GDP-এর ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে, রুপির ওপর চাপ বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি ১ শতাংশের বেশি বাড়বে এবং GDP প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।  

এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে উপসাগরীয় সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয়।  

শেয়ার করুন