ইরানের হামলায় কাতারের রস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) টার্মিনাল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, বিশ্বের বৃহত্তম LNG রপ্তানি কেন্দ্রটি পুনর্গঠনে অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগবে। এই ক্ষতির ফলে কাতারের বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার আয় হারিয়ে যাবে।
রস লাফান থেকে উৎপাদিত LNG বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। ফলে এই হামলা শুধু কাতারের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বিশাল ধাক্কা। ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো ইতিমধ্যেই তীব্র মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনুভব করছে। ফিলিপাইনে সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা রাখা হচ্ছে, ভিয়েতনামে মানুষকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এটি শুধু তেল ও গ্যাসের সংকট নয়। কম্পিউটার চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত হিলিয়াম এবং সার উৎপাদনে ব্যবহৃত সালফারের মতো কাঁচামালও সরবরাহে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে খাদ্য থেকে প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেবে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রতিশোধমূলক হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হওয়ায় তেল উৎপাদন কমে গেছে। এমনকি প্রণালী নিরাপদ হলেও রিফাইনারি ও গ্যাস টার্মিনাল পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে।
এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে। রস লাফানের ক্ষতি আগামী কয়েক বছর ধরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে, যা প্রতিটি দেশ ও সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।