ভারতে দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা ছিল এক ধরনের স্বপ্ন। স্থিতিশীল চাকরি, বিলাসবহুল জীবন—এই প্রত্যাশা নিয়ে অসংখ্য তরুণ-তরুণী ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্টে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন। *Unstop Talent Report 2026* অনুযায়ী, এ বছরের ব্যাচে ৮৫% ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক এবং ৭৪% বি-স্কুল শিক্ষার্থী এখনও চাকরি পাননি। এই সংখ্যা শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং ভারতের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার গভীর সংকটকে প্রকাশ করছে।
অন্যদিকে, নিয়োগকর্তারা বলছেন তারা সক্রিয়ভাবে নিয়োগ দিচ্ছেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৮৮% প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী খুঁজছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? মূলত সুযোগের অসম বণ্টন। বড় ক্যাম্পাসে যেখানে শত শত কোম্পানি আসে, সেখানে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ প্রতিষ্ঠানে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়া যেন এক বন্ধ দরজা।
এছাড়া প্রজন্মগত পরিবর্তনও বড় কারণ। আজকের প্রজন্ম বেতন নয়, বরং শেখার সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কাজের অর্থবোধকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও পুরনো কাঠামোতে নিয়োগ চালাচ্ছে। ফলে প্রার্থীরা মাঝপথেই নিয়োগ প্রক্রিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
ইন্টার্নশিপ এখন চাকরির প্রধান প্রবেশদ্বার হলেও, খুব কম প্রতিষ্ঠানই ইন্টার্নদের পূর্ণকালীন চাকরিতে রূপান্তর করে। ফলে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞতা পেলেও চাকরি পাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে ভারতের চাকরি সংকট আসলে একাধিক স্তরে ভাঙনের ফল। সুযোগের অসমতা, পুরনো নিয়োগ কাঠামো, প্রজন্মগত প্রত্যাশার অমিল—সবই একসঙ্গে কাজ করছে। যদি এই সেতু পুনর্নির্মাণ না হয়, তবে ভারতের জনসংখ্যাগত সুবিধা একদিন বোঝায় পরিণত হতে পারে।