ভারতের এক কালজয়ী হস্তশিল্প হল কোটা ডোরিয়া শাড়ি। মুঘল সম্রাট শাহজানের আমল থেকে আজ পর্যন্ত সমান ভাবে জনপ্রিয় এই শাড়ি। গরমে সকল নারীর পছন্দের তালিকায় প্রথমেই নাম থাকে এই কোটা ডোরিয়া শাড়ির। ব্যবহার তো রোজ করছেন, জানেন এই শাড়ির উৎপত্তির ইতিহাস? আসুন এই শাড়ির উৎপত্তির গল্পটা জেনে নিন...
কোটা ডোরিয়া প্রথম মহীশূরে তৈরি হয়েছিল। এই শাড়ির তাঁতিরা মাসুরিয়াস নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে ১৭ এবং ১৮ শতকের মধ্যে শাহজাহানের রাজত্বকালে মুঘল সেনাবাহিনীর একজন সেনা রাও কিশোর সিং, কিছু তাঁতিদের কোটায় নিয়ে আসেন। দুই রাজ্যের মধ্যে মিলনের ফলে,কোটা এবং মাসুরিয়া শাড়ির উৎপত্তি হয়, যেগুলি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য শোভা পায় কারণ এই ধরনের উপাদানকে শুভ বলে মনে করা হয়। এই ধরনের শাড়ি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং কোটা ডোরিয়া কাপড়ের জন্য পথ প্রশস্ত করে, যা ভারতের অন্যতম ফ্যাশনেবল কাপড়ে পরিণত হয়।
কোটা ডোরিয়া একটি বর্গাকার চেক প্যাটার্নে তুলো এবং সিল্কের একটি অনন্য সংমিশ্রণ। এই বর্গাকার চেক প্যাটার্নকে বলা হয় খাট এবং এটি কোটা ডোরিয়া ফ্যাব্রিকের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। সিল্ক উজ্জ্বলতা দেয় আর তুলো ফ্যাব্রিককে জিজাইন তুলতে সাহায্য করে। কোটা ডোরিয়া নামটি ভারতের রাজস্থানের কোটা থেকে নেওয়া হয়েছে। কোটা ডোরিয়া একটি খুব সূক্ষ্ম বুনন এবং ওজন খুব কম। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, লেহেঙ্গা ইত্যাদিতে কোটা ডোরিয়ার ডিজাইন দেখা যায়।
১৯৮০ দশকে, কোটা ডোরিয়ার অনেক নকল শাড়ির আধিক্য বেড়ে গেলে, আসল তাঁতিদের উপর প্রভাব পরে। পরে যদিও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পায় তাঁতিরা। ২০০৫ সালে কোটা ডোরিয়া শাড়িকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য, ভারত সরকার থেকে জি আই ট্যাগ দেওয়া হয়। সমস্ত কোটা ডোরিয়া শাড়ির মধ্যে হাতে বোনা একটি লোগো থাকে। যাতে আসল কোটা ডোরিয়া শাড়ি সকলে সহজেই চিনতে পারে।
কোটা ডোরিয়া শাড়ি ভারতের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। কোটা ডোরিয়া শাড়ির চেক প্যার্টান, লাইট ওয়েট কোয়ালিটির জন্য সকলের কাছে পরিচিত। ফ্যাশন উৎসাহীদের কাছে, পছন্দের একটি শাড়ি হল কোটা ডোরিয়া।