রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় কি আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন? শিক্ষামহলে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্নই। সূত্রের খবর, নতুন করে তৈরি হতে চলেছে 'স্টেট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক' বা এসসিএফ, যার মাধ্যমে বদলে যেতে পারে পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এমনকি পরীক্ষার কাঠামোও।
দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সুপারিশ কার্যত উপেক্ষিত থাকার অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যের বিরুদ্ধে। অবশেষে সেই ফাইলবন্দি প্রস্তাবগুলিকেই বাস্তব রূপ দিতে উদ্যোগী হয়েছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে একাধিক আলোচনা।
বছর খানেক আগে কেন্দ্রীয় সরকার গোটা দেশের জন্য তৈরি করেছিল 'ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক' বা এনসিএফ। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত এবং সময়োপযোগী করে তোলার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছিল এই রূপরেখা। পশ্চিমবঙ্গও সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল। প্রায় ১৫০ জন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাব্রতীর মতামত পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রের কাছে। কিন্তু তার পরেও রাজ্যে আলাদা করে 'স্টেট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক' তৈরি হয়নি বলেই দাবি শিক্ষা দফতরের একাংশের।
এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে কোন ক্লাসে কতটা পড়ানো হবে, কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, এমনকি সেমেস্টার পদ্ধতি চালু করা হবে কি না- সবই খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে নতুন ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষা, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার ক্ষেত্রেও আলাদা কাঠামো তৈরি হতে পারে।
তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা দফতরের সূত্রে খবর, সব কিছু ঠিকঠাক এগোলে ২০২৭ সাল থেকেই নতুন শিক্ষানীতি কার্যকর হতে পারে রাজ্যে।