এমন অনেকে রয়েছেন যারা ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করতে খুব ভালবাসেন। আগেকার দিনে, কোথায় কি ঘটেছে কিংবা কোন বছর মানব সভ্যতার জন্ম হয়েছে এইসব নিয়ে অনেকের মধ্যেই আগ্রহ দেখতে পাওয়া গেছে। আগে থেকেই বললে রাখা ভালো বিভিন্ন ধরনের প্রাচীন নিদর্শনের গবেষণা যারা করে থাকেন তাদের প্রত্নতত্ত্ববিদ কিংবা আর্কিওলজিস্ট বলে থাকে। এখন অনেক সাধারণ মানুষেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আর্কিওলজিস্টরা কি কাজ করে থাকেন? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক-
১)যারা প্রত্নতত্ত্ববিদ রয়েছেন তারা মাটি খুঁড়ে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ বের করে থেকে শুরু করে পুরনো বাড়ি, মন্দির এমন কি লেখাপত্র নিয়েও কাজ করে থাকেন।
২) প্রাচীন কোন জিনিস হাতে পাওয়ার পর তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন।
৩) প্রত্নতত্ত্ববিদরা আবার উদ্ধার হওয়া লিপির পাঠোদ্ধার করে। যেসব ভাষা গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল কিংবা সংস্কৃতি ও ধর্ম বিলুপ্ত হওয়ার পথে ছিল সেই সব নিয়ে নতুন ধারণা তৈরি করেন।
৪) মানবসভ্যতার সময় কোন সময়ের মানুষ কী কী জিনিস ব্যবহার করত কিংবা কেমন জীবনযাত্রা ছিল আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যায়।
দ্বাদশ শ্রেণীর উত্তীর্ণ করার পরেই অনেকই মনে মনে ভাবেন যে এবার তারা কি নিয়ে পড়াশোনা করবেন? সে ক্ষেত্রে কারো যদি ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ থেকে থাকে তারা এই প্রত্নতত্ত্ববিধি নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে আর্কিওলজি নিয়ে স্নাতক এ বি এ পাশ করতে হবে। এটা করার পরই পুরো আরা কলা বিভাগের অগ্রাধিকার পাবে। তবে, দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষাতে ন্যূনতম তাদের নম্বর থাকতে হবে ৫০ শতাংশ। নাটক উত্তর করার পরে রথযাত্রা ইতিহাস নৃ তত্ত্ব বিজ্ঞান কিংবা এরই সমান অন্য কোন বিষয়ে প্রার্থীদের ন্যূনতম স্নাতক হতে হবে। এরপর প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের খুবই শিক্ষায় পাস করলে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, আবার আর্কিয়োলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াতে এই বিষয়ের উপর করানো হয় ১২ মাসের পিজি ডিপ্লোমা কোর্স। এছাড়াও, প্রত্নতত্ত্বতে যাঁদের ইচ্ছে রয়েছে তাঁদের মধ্যভারতীয় বা প্রাচীন ইতিহাসে স্নাতকোত্তরে থাকতে হবে নূন্যতম ৫৫ শতাংশ নম্বর। এছাড়াও, পিএইচডি করার জন্য সুযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ের উপর পুণের ডেকান কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে শুরু করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অফ আর্কিয়োলজি ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়তে পড়ার সুযোগ রয়েছে। পড়াশোনা করার পর যাঁরা প্রত্নতত্ত্ববিদ হয়ে উঠবেন তাদের কর্মক্ষেত্র বলতে 'আর্কিয়োলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া'তে ডেপুটি সুপারিনটেন্ডিং আর্কিওলজিস্ট, এপিগ্রাফিস্ট, কিউরেটর, অ্যাসিস্ট্যান্ট আর্কিয়োলজিস্ট পদে কাজ পেতে পারেন। এ ছাড়া, রাজ্যের জাদুঘর কিংবা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে কাজের সুযোগ পেতে পারেন।