ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের আকস্মিক কাঁপন, যা পৃথিবীর অভ্যন্তরে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ মুক্তি পাওয়ার ফলে ঘটে। আমাদের পৃথিবী একটি কঠিন গোলক নয়; এর উপরিভাগ কয়েকটি বিশাল টুকরো বা টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলো সবসময় ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। যখন দুটি প্লেট একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়, দূরে সরে যায় বা পাশাপাশি ঘষা খায়, তখন বিপুল চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই চাপ একসময় ভেঙে বেরিয়ে আসে—আর তখনই সৃষ্টি হয় ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পের প্রধান কারণ হলো প্লেট টেকটোনিক গতিবিধি। উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলেই হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে এবং এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই ধরনের অঞ্চলকে ফল্ট লাইন বলা হয়, যেখানে শিলাস্তরের ফাটল বরাবর সঞ্চিত শক্তি মুক্তি পায়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলকে কেন্দ্র (ফোকাস) বলা হয় এবং এর ঠিক উপরের ভূপৃষ্ঠের স্থানকে উপকেন্দ্র বলা হয়।
তবে শুধু প্লেটের সংঘর্ষ নয়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস, এমনকি মানুষের কিছু কর্মকাণ্ডও ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। বড় বাঁধ নির্মাণ, খনি খনন বা গভীর কূপ খননের ফলে ভূস্তরে চাপের পরিবর্তন ঘটে, যা ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।
ভূমিকম্পের মাত্রা সাধারণত রিখটার স্কেলে পরিমাপ করা হয়, যা প্রবর্তন করেছিলেন Charles Francis Richter। বর্তমানে মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেলও ব্যবহৃত হয়। ভূমিকম্পের প্রভাব নির্ভর করে এর গভীরতা, মাত্রা এবং এলাকার জনবসতির ঘনত্বের উপর।
সচেতনতা ও প্রস্তুতি ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, বিজ্ঞানসম্মত নির্মাণপদ্ধতি ও পূর্বসতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়।