Calcutta Television Network

ভক্তি-প্রকৃতি একই মুদ্রার দু পিঠ, অসম

ভক্তি-প্রকৃতি একই মুদ্রার দু পিঠ, অসম

19 May 2026 , 06:55:50 pm

অসীম সেন: ঝাঁ-চকচকে বন্দেভারতের স্লিপার বগি। একটা সুগন্ধ গোটা কামরা ঘিরে। কাঁটায় কাঁটায় সন্ধ্যা ছটা কুড়িতে গড়ালো গাড়ির চাকা। রাতে মটর পোলাও, পনির পসিন্দা সহযোগে একপেট খেয়ে ঘুম। সকাল আটটা কুড়ি মিনিটে কামাখ্যা। একান্ন শক্তিপীঠের একটি হল কামাখ্যা দেবী সৃষ্টি ও উর্বরতার প্রতীক। এখানেই সতীর যোনিদেশ পড়েছিল। মন্দিরে দূরদুরান্ত থেকে ভিড় করেন পূণ্যার্থীরা, সাধকরা। অহোম রাজাদের তৈরি এই মন্দির। পঞ্চানন্দ তালুকদার এখন ভক্তিরসে মজেছেন। গোটা দিন গলায় পান্নালাল ভট্টাচার্য আর কুমার শানু। হোটেল পৌঁছিয়ে একটু ফ্রেস হয়ে মন্দিরে। পুজো দিয়ে আশেপাশে ঘুরে মায়ের ভোগ খেয়ে সন্ধ্যার আগে হোটেল।


যতই বন্দেভারত এলিট ক্লাসের ট্রেন হোক না কেন? চোদ্দ ঘণ্টা জার্নির তো একটা ক্লান্তি আছে। হোটেলের নরম গদিতে আধশোয়া হয়ে সন্ধ্যা থেকে দু কাপ চা সহযোগে টুলটুল বৌদিকে শাক্ত ধর্মের মূল তত্ত্ব বোঝাচ্ছিলেন মহাউৎসাহে। যদিও টুলটুল বৌদির এসব বিষয়ে খুব একটা উৎসাহ আছে বলে মনে হল না। কামাখ্যা থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব মাত্র ১৪ কিলোমিটার। সাজানো শহর। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ব্রহ্মপুত্র। নদকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে পর্যটন। এখন ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকা বিলাশ একটি বড় প্রাপ্তি। দেখা মিলবে ব্রহ্মপুত্রের ডলফিন। কাছেই উমানন্দ মন্দির। নদের ওপর দ্বীপ সেখানেই মন্দির। কথিত আছে কামাখ্যা মা কে পুজো দিয়ে উমানন্দে ভৈরবকেও পুজো দিতে হয়। নৌকা অথবা রোপওয়েতে চড়ে যেতে পারেন উমানন্দের মন্দিরে। ঘুরে নিতে পারেন বশিষ্ঠ মন্দির। ঘুরে নিতে পারেন অশ্বক্লান্ত মন্দির। নরকাসুরকে বধ করার পর কৃষ্ণের অশ্ব এখানে বিশ্রাম নিয়েছিল। অসমে একাধিক অভয়ারণ্য আছে। গুয়াহাটির থেকে পবিতোরা অভয়ারণ্যের দূরত্ব কম-বেশি ৫৫ কিলোমিটার। এই জঙ্গলের টিআরপি একশৃঙ্গ গন্ডারের জন্য। ২২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৭ রকম সরীসৃপ এবং ৩৭৫ রকম প্রজাতির পাখি রয়েছে এখানে। জিপ সাফারির বন্দোবস্ত রয়েছে এই অরণ্যে। গুয়াহাটি শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে চান্দুবি হ্রদ পক্ষী পর্যবেক্ষকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পেয়েছে আগেই। হাতি, ভারতীয় বাইসন, গউর, বাঘ, নানা প্রজাতির হরিণ-সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আশ্রয়স্থল কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান।


অরণ্য ঘোরার উপায় হল জিপ সাফারি। হাতি সাফারিরও ব্যবস্থা আছে। সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন মানস জাতীয় উদ্যান। তবে এতগুলি জঙ্গল ঘোরেননি তালুকদার পরিবার। টুলটুল বৌদির সাফ জবাব নতুন করে আর গণ্ডার দেখতে পারবেন না। পঞ্চানন্দ বাবু সবই বুঝলেন, জবাব দিলেন না। দুই আধবুড়ো বেছে নিয়েছিলেন মেঘালয়ের দিকটা। শিলং যাওয়া সময়ে পাহাড় ঘেরা উমিয়াম হ্রদ। হ্রদে প্যাডেল বোটিং করতে করতে নিজের পঁনেরশ পয়তাল্লিশটা সেলফি তুলেছিলেন বৌদি। রাত্রিবাস শিলংয়ে। পরের দিন শিলং থেকেই ঘুরে নিয়েছিলেন ওয়ার্ডস লেক, এলিফ্যান্স ফলস, নোহকালিকা‌ই ফলস, সেভেন সিস্টার ফলস, বাটারফ্লাই মিউজ়িয়াম। সময়ের অভাব, তাই ডাউকিটা ঘোরা হয়নি। rn


0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN