অসীম সেন: পাড়ার তরুণ কাকু কিংবা রীতা কাকিমার কাছে আপনি জান্সকারের গল্প শুনতে পারবেন না, সে বিষয়ে একশ এক শতাংশ নিশ্চিত। জান্সকার হিমালয়ের একান্ত বৈঠক খানা। যা বছরের বেশ কয়েক মাস ধরে বাকি বিশ্ব থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন এখানে যাওয়া আসার একমাত্র পথ জান্সকার নদী। ইন্দো-পাকিস্তান যুদ্ধের ফসল হিসেবে কারগিল জেলা বেশ পরিচিত। জান্সকার কারগিলের একটি অংশ। এর কাছেই রয়েছে পাদুম শহর। ছবির মত সাজানো হাতের তালুর মত ছোট। জাং মানে তামা স্কার বা মখার মানে প্রাসাদ এবং তারা।
জান্সকার নদীটি দুটি নদীর জলে পুষ্ট। ডোডা এবং লুংনাক। শ্রীনগর থেকে রওনা দিলে চারচাকায় জান্সকার যেতে সময় লাগে দু দিনের মত। অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি রুক্ষ ভূমি। যদি পরিবেশের সঙ্গে না মানিয়ে চলতে পারেন তাহলে এখানে আসা বৃথা। জান্সকার উপভোগ করতে হলে আগে পর্বত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। জান্সকারে রয়েছে রাংডুম। একটি অদ্ভূত পাহাড় সূর্যের আলো হাজার রঙে ছড়িয়ে পড়ে। এখানে সবথেকে উল্লেখযোগ্য পর্বত হল নুন আর কুন। যমজ পর্বত, রাংডুমকে অনন্য করে তুলেছে। এখান থেকে সূর্যাস্ত সত্যি অনন্য। পাহাড়ি গ্রাম কারশায় জান্সকারের সবথেকে বড় মঠটি রয়েছে। তবে সবথেকে আলাদা ধরণের মঠ যদি দেখতে হয় তাহলে যেতে হবে ফুকতাল। শাদে পুরো জান্সকার ও লাদাখের এমনকি বিশ্বের অন্যতম দুর্গম গ্রাম।
দারচা যাওয়ার পথে গোনবো রাংজোন একটি পবিত্র পর্বত। এই পর্বতের পাদদেশে অসংখ্য ফুল যেন গোটা এলাকাটাকে একটি ফুলের সাজি বানিয়ে তুলেছে। জংখুলে একটি ধ্যানগুহা রয়েছে। অনেক মহান লামা এখানে এসেছিলেন। এখানে থাকা খাওয়া অত্যন্ত সাধারণ। জুটতে পারে স্কিউ আর চুটাগি। আটা ও সবজি দিয়ে তৈরি অনেকটা পাস্তার মত। খেতে পারেন খাম্বির । স্থানীয় এক প্রকার রুটি যা মাখন কিংবা জ্যাম দিয়ে খাওয়া হয়। আর অবশ্যই খাবেন বাটার টি। এখানে পৃথিবী থমকে গিয়েছে। তাই দ্রুত নাগরিক জীবন এখানে কাটাতে পারবেন না। হিমালয়ের প্রকৃত রূপ দেখতে চাইলে কাঁধে নিন রুকস্যাক। প্ল্যান করুন জান্সকারের।