অসীম সেন: লাল বারমুডা আর হলুদ গেঞ্জি পড়ে পাহাড়ি নদীর মধ্যে পানকৌড়ির মত হুপুশ হুপুশ করে ডুব দিচ্ছিলেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। পারে বসে টুলটুল বৌদি। হাতে খুব ভুল না করলে প্যাকেটজাত ফলের রস। দাদার জন্যও রয়েছে একটা। শিবখোলা নামটা কোথা থেকে এসেছে সঠিক ভাবে বলা যাবে না। যতদূর ধারণা করা যায়। গ্রামে একটি প্রাচীন শিব মন্দির আছে। আর গ্রাম ঘিরে রয়েছে পাহাড়ি নদী বা খোলা। এই দুই থেকে নাম হতে পারে শিবখোলা। শিবখোলায় আসার পিছনে কোনও প্ল্যান ছিল না। শুক্রবার রাতে ধর্মতলা থেকে ভলভো ধরে ভোর বেলায় শিলিগুড়ি। সেখান থেকে চারচাকায় মেরেকেটে ঘন্টা দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। রাস্তায় পাহাড়, নদী, চা-বাগান, পাহাড়ি পাকদণ্ডী।
তালুকদার দম্পতি শিবখোলায় পৌঁছে গিয়েছিলেন সকাল আটটায়। আগে থেকেই ইউটিউব ঘেটেঘুটে একটা হোমস্টে দেখে নেওয়া হয়েছিল। হোমস্টের লুচি তরকারি, ডিম সিদ্ধ আর চা সহযোগে জলখাবার সেরে বেড়িয়ে পড়েছিলেন। পাহাড়ি ফুলের বাগানে সাজানো গোটা গ্রাম। এখানের শিব মন্দির খুব জাগ্রত। পতাকা দিয়ে সাজানো গোটা মন্দির। পাঁচ সিকে দিয়ে পুজো দিলেন টুলটুল বৌদি। হাঁটতে হাঁটতে পাহাড় ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে একটি দোকানের খোঁজ মিলল। সেখানে আর এক কাপ চা। শিবখোলা জায়গাটি মহানন্দা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি দিয়ে ঘেরা। মেয়ে ব্যাঙ্গালোর থেকে একটি ডিএসএলআর পাঠিয়েছে। গোটা রাস্তায় অচেনা পাখির ছবি তোলার নেশায় পেয়েছে পঞ্চানন্দ বাবুর।
একটু ঘুরে ফিরে নদী পাড়ে। নদীর মাঝে মাঝেই বাঁশের সাঁকো। নুড়ি পাথর দিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয়েছে সুইমিংপুল। জলে গা ভাসালেন আধবুড়ো পঞ্চানন্দ তালুকদার। পরেরদিন গাড়ি নিয়ে লাটপাঞ্চার, অহলদারা, মহালদিরাম। ফেরারদিন একটু বেলায় পর্যন্ত ঘুমিয়ে। নদীপারে ঘুরে বেড়িয়ে জলখাবার খেয়ে ফের গাড়ি।দুপুর দুপুর স্টেশনে পৌঁছে সামান্য বাজারহাট ঘুরে বিকেল ৫:২৫ এ কামরূপে ব্যাক টু কলকাতা।