অসীম সেন: পাঁচতারার আরামে অভ্যস্ত? দার্জিলিং এর গ্লেনারিস ছাড়া সন্ধ্যাটা বেকার মনে হয়? দীঘা বা পুরি তে রুমের জানালা খুলে বেড থেকে সমুদ্র দেখেন? আপনাকে হতাশ করলাম, এ প্রতিবেদন আপনার জন্য নয়। যদি মশার জন্য জানালা না খোলেন তাহলে মাতলার বুকে চাঁদের লুটোপুটি দেখবেন কী ভাবে? রাত্রিবাসের সামনেই নদী চলে আসে জোয়ারে। বাদাবন তখন কোমর ডুবিয়ে জলে হুটোপুটি করে। মাতলা আর নিমানিয়ার সঙ্গমস্থল। কলকাতা থেকে লোকাল ট্রেনে সময় লাগে মাত্র এক ঘণ্টা ১২ মিনিট। প্রয়োজন শনি-রবি দুই দিন। শনিবার পিঠে ক্লাব ব্যাগে দু সেট জামাকাপড় নিয়ে রওনা দিন। সকাল ৭:১৪ র নামখানা লোকাল ধরে জয়নগর-মজিলপুর স্টেশন। পৌঁছবেন ঠিক ৮:২৬ এ। স্টেশনের বাইরে এসে কিছু খেয়ে নিতে হবে। ঘোরার আনন্দে সুগারের ওষুধের কথা ভুললে চলবে কেন? এখানে পেটাই পরোটার সঙ্গে তরকারিটা জাস্ট ফাটাফাটি। কথাবার্তা বলে একটা অটো নিয়ে নিতে হবে। অটো করে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম। রাস্তায় একটা অচেনা অজানা ভাব। সবে গ্রাম্য ভাব কাটিয়ে ওঠা একটি লোকালয়। নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম অনেকটা বেলুর মঠের আদলে তৈরি। আপনার থাকার আস্তানা কৈখালি পর্যটক আবাস। এটি রামকৃষ্ণ মিশন দ্বারা পরিচালিত। আগে থেকে বুক করা থাকলেও। যাওয়ার পথে আশ্রমের মহারাজের সঙ্গে কথা বলে যাওয়াই রীতি। এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিমপীঠ আশ্রমের একটি ভূমিকা রয়েছে। এখানেই কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে দুপুরের খাবারটা সেরে নিতে পারেন। বিকালে সোজা কৈখালি।
এখান থেকে শহুরে সভ্যতা বিদায় নেবে। চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। অটো থামবে বাঁধরাস্তার মুখে। এখানেই পর্যটন আবাস। চারবেলা খাবার ধরে মাথাপিছু খরচ ৬০০ টাকার মত। এখানে অভিমানি মাতলা সাগরসঙ্গমে চলেছে। হাওয়ার ভরসায় তার তেজ সমুদ্রের থেকে নেহাত কম নয়। ঘর বলতে আহামরি কিছু নয়, কিন্তু নিরিবিলি । ঘরে লাগেজ রেখে নৌকা ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন নদীর বুকে। একদিকে মাতলা অন্যদিকে নিমানিয়া। একটি নদী শান্ত ভীষণ অন্যটি দুর্দান্ত। ধীরে ধীরে সূর্য আবির গুলবে নদীর জলে। কানে আসবে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি। আশ্রম পরিচালিত একটি মন্দির । প্রতিদিন নিয়ম মেনে সন্ধ্যা আরতি হয় এখানে। একটু সময় কাটিয়ে চলে যান নদী পারে। নদীপাড়ে ভীড় জমেছে বসেছে মেলা। হাজির দোকানিরা।
তা বলে শহুরে খাবার মিলবে না। চাইলে খেতে পারেন ঝালমুড়ি, আলুকাবলি, ফুচকা আর পাগল করা হাওয়া। আপনি পূর্ণিমার কথা মাথায় রেখেই আসবেন আশাকরি। লেবু চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে উপভোগ করুন মাতলার রুপালী ঢেউ। ওপারেই ঝড়খালি। রয়েছে টাইগার রেসকিউ সেন্টার। হয়তো বা ভেসে আসতে পারে দক্ষিণ রায়ের ডাক। রাতে ঘুম আসতে যদি দেরি হয়। জানলা খুলে গল্প করতে থাকুন মাতলার সঙ্গে। রাতের জোয়ারে মাতলা পরিপূর্ণ। মাথার ওপর থালার মত চাঁদ। নদীর হাওয়ায় ঘুমপরিরা ভীড় জমাবে আপনার চোখের পাতায়। পরের দিন টিফিন করে রওনা দিতে পারেন ঝড়খালির উদ্দেশে। সেখানেও থাকার জায়গা রয়েছে। ঝড়খালি মানে সুন্দরবন। জঙ্গলের অনুভূতি সবসময়ই আলাদা।