কুয়াশা মাখা সরলবর্গীয় গাছ গুলি যেন এক অমোঘ ইশারা। এ ইশারা এড়িয়ে যাবার ক্ষমতা থাকে না। ভাগ্যিস পায়ে পাহাড় চামড়ার জুতো রয়েছে, নয়তো পঞ্চানন্দ তালুকদার এতক্ষনে ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন হতেন। টুলটুল বৌদির বিষয়টা অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। গোলাপী জিনস আর সবুজ পঞ্চুতে বৌদি এখন অষ্টাদশী। ঠোঁটের লালরঙ কুঁচকে মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলছেন। তুলেই চলেছেন।
টিকিট কেটে লামাহাট্টার সাজানো বাগানে যখন পঞ্চানন্দ দম্পতি পা রেখেছিলেন, তখনও বিষয়টা এতটা বোঝা যায়নি। ল্যাটেরাইটের ওপর কুয়াশা পড়লে পিছল হয়। স্থানীয় উপজাতিরা যত্ন করে পাথর বিছিয়ে রাস্তা বানিয়ে রেখেছেন। শেরপাদের গ্রাম লামাহাট্টা। দার্জিলিং থেকে কাছেই ৫৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এনজিপি থেকে লামাহাট্টায় পৌঁছতে কম বেশি চার ঘণ্টা ধরে চলা ভালো। যাবার সময় পেশক রোড দিয়ে উঠলে। পেশক ভিউ পয়েন্টের সামনে বেশ কিছু ছোট রেস্তোরাঁ আছে। একটু সময় কাটিয়ে পেট ভরিয়ে নিতে পারেন। লামাহাট্টা পানে পাইনের জঙ্গল। প্রথমেই কিছু ছবি তুলে একটু একটু করে হাঁটা শুরু করবেন। কয়েক পা চলার পরই দিক নির্দেশ। ওপরে রয়েছে পবিত্র জলাধার। কিছুটা যাবার পরেই নিজেকে এডমন্ড হিলারি ভেবে ফেললেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। কোমরে চোট ভালোই পেতেন যদি সময় মত গাছের গুড়ি ধরে না নিতেন। জঙ্গলের মধ্যে অসংখ্য ফুল। নিজেকে হারিয়ে ফেলা। বুকে হাঁফ ধরবে বটে কিন্তু সব মিলিয়ে একটা না ভোলা প্রাপ্তি।
মাঝেমাঝে বসার জায়গা। কুয়াশা ঘিরে আছে আপনাকে। চুড়ায় পৌঁছিয়ে দেখতে পাবেন ছবি আঁকা পবিত্র লেক। চারিদিক সুনশান। হিমেল হাওয়ায় নানা রঙের ধর্মীয় পতাকাগুলি উড়ছে পতপত করে। কিছু পাখি নিস্তব্ধতা ভাঙছে। আপনি যদি অর্কিড লাভার হন তাহলে লামাহট্টা আপনার কাছে স্বর্গ।নানা ধরণর দু্স্প্রাপ্য হিমালয়ান অর্কিড। লামাহট্টা থেকে ডানডে মাত্র ৩ কিলোমিটার। এখানে একটি হিলটপ ওল্ড ফোর্ট রয়েছে। লামাহাট্টা থেকে সামান্য ট্রেক করে গেলেই ডেন্সধুপি প্ল্যান্টেশন। দুদিন এখানে সময় কাটান। পাহাড়ের কোলে রয়েছে থাকার জায়গা। শুধু গুগল আঙ্কেলকে জিজ্ঞাসা করে বাকিটা জেনে নিতে হবে। ও ভালো কথা, এর মধ্যে টুলটুল বৌদির জন্মদিন ছিল। রাতের আকাশের চাঁদ তারা দেখতে দেখতে বৌদির হাতে হাত রাখল দাদা। বাকিটা ব্যক্তিগত।