শীতকালে বাংলার পূর্ব পশ্চিম যেখানে খুশি যান না কেন? গরম আসলেই শুধু পাহাড় আর সমুদ্র। তাও সমুদ্রে গেলে স্নান টুকু ছাড়া গোটা দিন ঘুরবেন কোথায়? তাই পাহাড়ই বেস্ট। তা সবাই পাহাড়ে গেলে পাহাড়ে তো পাথরের থেকে মানুষ কম হয়ে যাবে। তাই আপনার জন্য রইল এমন কিছু জায়গার হদিস যেখানে এখনও তেমন ভাবে পা পড়েনি ভ্রমণ পিপাশুদের। প্রথমেই যেটা করতে হবে নিউজ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত টিকিট কেটে নিন। এ সময়ে কিন্তু নিউজলপাইগুড়ির টিকিট হাই ডিমান্ড। তাই টিকিট কাটা নিয়ে গরিমসি করবেন না।
বাগোড়া
কার্শিয়াঙের আধঘণ্টা দূরত্বেই রয়েছে বাগোড়া। ছিমছাম সবুজে মোড়া বাগোড়া। আকাশের দিকে তাকালেই দেখবেন কাঞ্চনজঙ্ঘা মেঘের আঁচল ঠিক করছে আগোছালো ভাবে। অলস সকাল গায়ে একটা হালকা শাল ফেলে ঘুরে আসতে পারেন এপাশ ওপাশ। হেঁটে ঘুরে নেবেন ঘন পাইন বন। কাছেই রয়েছে চিমনি গ্রাম। ব্রিটিশ আমলের একটি পুরানো চিমনি থেকে এ গ্রামের এমন নাম। এখানে বিমানবাহিনীর একটি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে। হেঁটেই যাওয়া যায় সেখানে। সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন হিমালয়ের একটি প্যানোরামিক ভিউ। পাহাড়ে সন্ধ্যা নামে ঝুপ করে। চাইতাপানি চা বাগান থেকে অপূর্ব সূর্যাস্ত দেখা যায়। বাগোড়া থেকে চিমনি পর্যন্ত জঙ্গল ট্রেকিং করতে পারেন। যদি পাখি ভালোবাসেন তাহলে এই জায়গা শুধু আপনার জন্য। মার্চ এপ্রিলে বাগোড়া ছেয়ে যায় রডোডেনড্রন ফুলে। ফাইভস্টার তো দূরঅস্ত। কেতাদূরস্ত কোনও হোটেল পাবেন না। বেশ কয়েকটি স্থানীয়দের হোমস্টে আছে। সেখানে পাবেন পাহাড়ি আতিথেয়তা সঙ্গে নেপালী খাবার।
ঋষিহাট
হোমস্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। সামনে ঘন মেঘ খাতের ওপর কার্পেট বিছিয়ে পড়ে আছে। হাতের কফি মগে উদাস চুমুক। হঠাৎই সামনে থেকে সরে গেল মেঘ। আপনার চোখের সামনে আকাশ ছুঁয়ে আধশোয়া হয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দার্জিলিং থেকে দূরত্ব মেরেকেটে দু ঘন্টা। হোমস্টের বারান্দা থেকে গোটা উপত্যকাটি অসাধারণ। চা বাগানের মাছে একটি ছোট পাহাড়ি গ্রাম। সন্ধ্যা বেলায় দার্জিলিং পাহাড়ের গায়ে আলোর মালা। গোটা পাহাড়ে যেন জোনাকির ঝাঁক। আপনার মন ভালো হতে বাধ্য। গোটা গ্রাম জুড়ে ছোট ছোট কাঠের ঘরবাড়ি। এখান থেকে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন দুবেলা সময় করে হাঁটতে বেরোন। পাহাড়ের গায়ে চায়ের দোকান থেকে একটু দাঁড়িয়ে চা খান। পলক না ফেলে তাকিয়ে থাকুন পাহাড়ের দিকে। রোদ-মেঘের খেলা উপভোগ করুন। দৌড় ঝাপ নেই। বয়স্করাও দিব্যি সময় কাটিয়ে যেতে পারেন। দুটো দিন কোথা থেকে কেটে যাবে টের পাবেন না।