পঞ্চানন্দ তালুকদার সেই প্রজাতির মানুষ, যারা সকালে নাকে কানে সরষের তেল দিতে দিতে হেড়ে গলায় কাব্যি করে,' ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুইন'। কিন্তু সময় এলেই অন্নপায়ী বঙ্গবাসী, স্তন্যপায়ী জীব। জনা-দশেকে জটলা করি তক্তপোষে বসে। পঞ্চানন্দ তালুকদারদের কাছে পাহাড় ভ্রমণ মানে, মেঘ এসে জানলার কাচে ধাক্কা দিয়ে, রেখে যাবে বিন্দু বিন্দু জল, আর আপনি গায়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে কফি কাপে চুমুক দিয়ে অনন্ত শয্যায় শুয়ে থাকবেন, উদাস চোখে দেখবেন পাহাড় চূড়া।
এই ধরণের মানুষদের জন্য বেস্ট অপশন সুখিয়া পোখরির হিলটোপিয়া। সুখিয়া পোখরির টিআরপি অবশ্যই চিতা। ট্যুর অপারেটররা তৈরি করেছে বিশেষ প্যাকেজ—‘Leopard Trail Package’। যেখানে ভোর বা সন্ধ্যায় বিশেষ ভাবে সুরক্ষিত গাড়িতে গাইডেড ট্যুরে পর্যটকদের ঘোরানো হয়। ট্যুরিস্ট উদ্গ্রীব থাকে চিতার সাক্ষাতের অভিলাষে। হিলটোপিয়াকে মেঘের ঘরবাড়ি বলা যেতেই পারে। চোখের সামনে শুধু মেঘ আর মেঘ। মেঘ সরলেই ঝলমলে কাঞ্চনজঙ্ঘার পুরো রেঞ্জ। পাহাড়ের কোল ঘেষে আপনার থাকার জায়গা। ব্যালকনিতে দাঁড়ালে মনে হবে আপনি ঝুলছেন পাহাড়ে। পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির কোলে সময় কাটান । ভিড় নেই, হকারদের হাকডাক নেই।
নিউজলপাইগুড়ি রেল স্টেশন থেকে চারচাকায় দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। যদি দার্জিলিং থেকে আসতে চান তাহলে ঘুম হয়ে মিরিকের রাস্তা ধরে আসতে হবে। মনে হতেই পারে দার্জিলিং কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি গ্রামের থেকে হিলটোপিয়া আলাদা কেন? মেঘের দেশে থাকার ফিল, একই সঙ্গে চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ। একেবারে একটা অফবিট লোকেশন, তবু কানেক্টিভিটির ঝামেলা নেই। দুদিন শান্তিতে যদি কাটিয়ে দিতে চান তাহলে হিলটোপিয়া বেস্ট অপসন।