আজকের বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো চাকরি হারানোর ভয়। অনেকেই মনে করেন, এআই শ্বেতপদ চাকরি—যেমন অফিসের কাজ, কোডিং বা কাস্টমার সার্ভিস—দখল করে নেবে। কিন্তু মহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মহিন্দ্রা সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, আসল সংকট অন্য জায়গায়—দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি।
একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফোর্ডের সিইও জিম ফারলি জানিয়েছেন যে কোম্পানির ৫,০০০ মেকানিকের পদ খালি, যেগুলির অনেকগুলির বার্ষিক বেতন প্রায় ১,২০,০০০ ডলার, তবুও আবেদনকারী নেই। শুধু ফোর্ড নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, ট্রাক চালানো এবং কারখানার অপারেশন—এমন এক মিলিয়নেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য পড়ে আছে। মহিন্দ্রার মতে, এটি ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, বরং এখনই ঘটছে।
বিগত কয়েক দশক ধরে সমাজে ডিগ্রি ও অফিসের চাকরিকে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত হিসেবে দেখা হয়েছে। অপরদিকে দক্ষ কারিগরি কাজকে নিচু চোখে দেখা হয়েছে। অথচ এই কাজগুলোই এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা, হাতের দক্ষতা, বিচারবোধ ও শিক্ষানবিশের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান—এসবই প্রয়োজন হয় কারিগরি কাজে। একটি রোবট হয়তো কোড লিখতে পারে, কিন্তু ট্রাকের ইঞ্জিন মেরামত বা বিদ্যুতের তার জোড়া লাগাতে পারে না।
মহিন্দ্রা প্রশ্ন তুলেছেন: আমরা কি সমাজে স্বপ্নের চাকরির সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করতে যাচ্ছি? যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে যারা বাস্তবে তৈরি করতে পারে, মেরামত করতে পারে এবং পৃথিবীকে সচল রাখতে পারে, তারাই এআই যুগের প্রকৃত বিজয়ী হবে।
তিনি আরও বলেছেন, মার্ক্স শ্রমিকদের সংগ্রামের মাধ্যমে উত্থানের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু আজকের বাস্তবতা হলো, শ্রমিকরা তাদের দক্ষতা ও অপরিহার্যতার কারণে অপ্রতিস্থাপনীয় হয়ে উঠছেন। এটি এক নতুন বিপ্লব—সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং **মূল্য আবিষ্কারের মাধ্যমে**।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়াও এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করেছে। অনেকেই বলেছেন, ডিগ্রির মোহে আমরা ভুলে গিয়েছিলাম সেই মানুষদের, যারা সমাজকে সচল রাখে। এখন সেই কাজগুলোই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হয়ে উঠছে।
অতএব, এআই যুগে ভবিষ্যৎ তাদেরই, যাদের দক্ষতা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।