মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমাবে এবং দুই দেশ একটি “ন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি”-র খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বর্তমানে ভারতকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়—যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ‘পেনাল্টি’ শুল্ক ছিল রাশিয়ান তেল কেনার কারণে। ট্রাম্প বলেন, ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করেছে এবং শুল্ক ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে।
নয়াদিল্লির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবর থেকে দুই দেশ আইনি খসড়া তৈরি করছে এবং আর কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই। তারা বলছেন, ভারত আলোচনায় প্রতিটি সংবেদনশীল খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়। কর্মকর্তারা আশাবাদী যে কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে অবশেষে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। একই সময়ে ভারত নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনাও এগিয়ে নিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে শুক্রবার দিল্লি সফরে আসছেন এবং ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইইউ বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচও আসবেন।
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, ভারত কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদক ও শ্রমিকদের স্বার্থে কোনো আপস করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি চাইছে এবং নতুন বাজার খুঁজছে, যেমন রাশিয়া, যেখানে মাছের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্কের কারণে সমস্যায় পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের উচিত ১৫ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের লক্ষ্য রাখা, যা যুক্তরাজ্য ও জাপান পেয়েছে। কারণ চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতীয় পণ্য পিছিয়ে পড়তে পারে। ভিয়েতনামের দ্রুত রপ্তানি বৃদ্ধিও ভারতের জন্য চাপ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানো ভারতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি ও ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতেও দুই দেশ সহযোগিতা করবে।