Calcutta Television Network

প্রজেক্ট প্রমিথিউস: জেফ বেজোসের নতুন এআই অভিযাত্রা

জেফ বেজোস আবারও প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছেন তাঁর নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ **প্রজেক্ট প্রমিথিউস**‑এর মাধ্যমে। এটি তাঁর সবচেয়ে বড় কার্যকরী ভূমিকা, যেটি তিনি চার বছর আগে অ্যামাজনের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর গ্রহণ করলেন। ঘোষণার পরপরই এলন মাস্ক সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে “কপি ক্যাট” বলে কটাক্ষ করেন—যা তিনি আগেও করেছেন যখন বেজোস মহাকাশ অনুসন্ধান, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা স্বয়ংচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিলেন।  

প্রজেক্ট প্রমিথিউস শুরু থেকেই বিপুল অর্থায়ন পেয়েছে। ইতিমধ্যেই ৬.২ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ এসেছে বেজোসের নিজস্ব বিনিয়োগ থেকে। এই অর্থায়ন এটিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী স্টার্টআপে পরিণত করেছে। উদ্যোগটির সহনেতৃত্বে রয়েছেন বিক বাজাজ, যিনি গুগল এক্স‑এর প্রাক্তন বিজ্ঞানী এবং ভেরিলি ও ফোরসাইট ল্যাবসের সহ‑প্রতিষ্ঠাতা।  

প্রজেক্ট প্রমিথিউস মূলত প্রকৌশল ও উৎপাদন খাতের জন্য এআই পণ্য তৈরি করবে। কম্পিউটার, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং অটোমোবাইল শিল্পে এর প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই শিল্পকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি একে মাস্কের xAI থেকে আলাদা করে, যেখানে “গ্রক” মডেল মূলত জেনারেটিভ এআই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।  

স্টার্টআপটি ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ জন গবেষক নিয়োগ করেছে, যাদের অনেকেই ওপেনএআই, ডিপমাইন্ড এবং মেটার মতো শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছেন। এটি প্রমাণ করে যে বেজোস এই উদ্যোগকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং কতটা সম্পদ বিনিয়োগ করছেন।  

বেজোস ও মাস্কের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে আছে—মহাকাশ অনুসন্ধান থেকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, স্বয়ংচালিত গাড়ি এবং এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। মাস্কের কটাক্ষ হয়তো শিরোনাম তৈরি করে, কিন্তু বেজোসের প্রজেক্ট প্রমিথিউস শিল্পের ভিতরে এআইকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার কৌশলগত প্রচেষ্টা।  

অতএব, বিপুল অর্থায়ন, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং শিল্পকেন্দ্রিক লক্ষ্য নিয়ে প্রজেক্ট প্রমিথিউস আগামী দিনে এআই খাতে অন্যতম আলোচিত উদ্যোগে পরিণত হতে চলেছে। এটি “কপি ক্যাট” না হয়ে প্রকৃত উদ্ভাবক হিসেবে প্রমাণিত হবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।  


শেয়ার করুন