ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লক্ষ ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ওয়াল স্ট্রিটের নিয়োগ মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক থেকে হাজার হাজার উচ্চ দক্ষতার ফাইন্যান্স ও টেক চাকরি এখন স্থানান্তরিত হচ্ছে ভারতের আর্থিক কেন্দ্রগুলো—বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, গুরগাঁও ও মুম্বাইতে।
জেপি মরগ্যান নিয়োগ করছে ক্রেডিট-সাপোর্ট বিশেষজ্ঞ, গোল্ডম্যান স্যাকস বাড়াচ্ছে লোন-রিভিউ ডেস্ক, আর কেকেআর নতুন কর্মী নিচ্ছে পোর্টফোলিও কোম্পানি তদারকির জন্য। হেজ ফান্ড মিলেনিয়াম ম্যানেজমেন্ট ভারতে তৈরি করছে রিস্ক অ্যানালিটিক্স টিম, আর ওকট্রি ক্যাপিটাল খুলেছে হায়দরাবাদে নতুন অফিস। এই প্রবণতা আসলে গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC)‑এর সম্প্রসারণের অংশ, যেখানে ইতিমধ্যেই ১.৫ লক্ষাধিক পেশাজীবী কাজ করছেন কোয়ান্ট রিসার্চ, এআই সিস্টেম ও রিস্ক মডেলিং‑এ।
হোয়াইট হাউস বলছে, ব্যাংকগুলো এতদিন বিদেশি কর্মী এনে আমেরিকানদের মজুরি কমাচ্ছিল। তাই এই নীতি “আমেরিকা ফার্স্ট” এজেন্ডার অংশ। তবে শিল্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—ভারত এখন শুধু সস্তা শ্রমের বাজার নয়, বরং গভীর প্রতিভার ভাণ্ডার। গ্রান্ট থর্নটন ভারত এলএলপি‑র অংশীদার বিবেক রামজি আইয়ার বলেছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ভবিষ্যতে এই কেন্দ্রগুলোকে চাপে ফেলতে পারে।
ভারতের ব্যাংকিং ব্যাক‑এন্ডের উত্থান কয়েক দশকের পুরনো। নব্বই দশকে সাধারণ ব্যাক‑অফিস কাজ দিয়ে শুরু হলেও আজ তা বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পরিণত হয়েছে। বেঙ্গালুরুর গোল্ডম্যান স্যাকস টিম তৈরি করেছে অ্যাটলাস ট্রেডিং সিস্টেম, আর ব্ল্যাকরকের আলাডিন প্ল্যাটফর্মের অংশও ভারতে উন্নত হয়েছে।
নিয়োগকর্তারা বলছেন, ১ লক্ষ ডলারের ভিসা ফি কর্মী স্থানান্তরকে কম আকর্ষণীয় করেছে। ফলে কোম্পানিগুলো স্থানীয় বিনিয়োগে ঝুঁকছে। এদিকে মোদি সরকার দিচ্ছে কর ছাড় ও গবেষণা‑উদ্ভাবন প্রণোদনা। ন্যাসকম ও জিনোভের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের জিসিসি শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে।