ভারতের চাকরির বাজারে এক অদ্ভুত সংকট দেখা দিচ্ছে—যেখানে উচ্চ শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও চাকরি পাচ্ছেন না। সম্প্রতি এক টেকি Reddit-এ একটি পোস্টে জানান, ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা ও বছরে ₹৭০ লক্ষ আয়ের পরও তিনি সাত মাস ধরে বেকার। LinkedIn, Naukri, রেফারেন্স, এমনকি প্রিমিয়াম পরিষেবাও কাজে আসেনি। মাত্র দুটি ইন্টারভিউ—এটাই তার সাত মাসের ফলাফল।
এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM)-এর উত্থান চাকরির নিয়মকানুন বদলে দিচ্ছে। মধ্য-স্তরের পেশাজীবীরা, যাঁরা একসময় অপরিহার্য ছিলেন, এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছেন। কোম্পানিগুলি এখন খুঁজছে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও AI-সক্ষম তরুণ প্রতিভা।
প্রোডাক্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ধর্মেশ বা বলেন, অনেক অভিজ্ঞ পেশাজীবী নিজেদের দক্ষতা আপডেট করেননি। তাঁদের ডিজাইন বা কাজের মান LLM-এর প্রথম খসড়ার মতো—নির্বিষ ও পুনরাবৃত্ত। অন্যদিকে, তরুণ গ্র্যাজুয়েটরা AI টুলে দক্ষ, সৃজনশীল এবং কম খরচে বেশি কাজ করছেন।
এই AI ধাক্কা শুধু প্রযুক্তিগত নয়—এটি প্রজন্মগতও। ২০২১ সালের বেতনবৃদ্ধি অনেকের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল, কিন্তু এখনকার বাস্তবতা বলছে—দক্ষতা ও নমনীয়তা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন।
সমাধান কী? একদিকে পেশাজীবীদের চাই ধারাবাহিক আপস্কিলিং—AI, ডেটা সায়েন্স, ডিজাইন থিঙ্কিং-এ। অন্যদিকে, সরকার ও কর্পোরেটদের চাই পুনঃপ্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ নীতি।
AI বিপ্লব মানে শুধু মানুষের বদলে মেশিন নয়—মানুষ ও মেশিনের সহাবস্থান। অভিজ্ঞদের টিকে থাকতে হলে অতীত নয়, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে