Calcutta Television Network

চীনের ঋণনীতির পরিবর্তন: উন্নত অর্থনীতির দিকে নতুন দৃষ্টি

নতুন গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে চীন তার বৈদেশিক ঋণ প্রদানের ধরণে এক বড় পরিবর্তন এনেছে। একসময় যেখানে চীনের ঋণ প্রবাহ মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে যেত, এখন তা ক্রমশ উন্নত অর্থনীতির দিকে মোড় নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীনের সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতা হিসেবে উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।  

উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের AidData গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চীন প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান দিয়েছে ২০০টি দেশে। এর ফলে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি ঋণদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০০ সালে চীনের ৮৮% ঋণ নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে গিয়েছিল, কিন্তু ২০২৩ সালে সেই হার নেমে এসেছে মাত্র ১২%-এ।  

অন্যদিকে, চীনের ঋণের তিন-চতুর্থাংশ এখন উচ্চ-মধ্যম ও উচ্চ আয়ের দেশগুলির প্রকল্পে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র একাই ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পেয়েছে প্রায় ২,৫০০ প্রকল্পে। চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন অর্থনীতির প্রায় সব খাতে উপস্থিত—জ্বালানি অবকাঠামো, পরিবহন কেন্দ্র, কর্পোরেট ঋণ লাইন থেকে শুরু করে উচ্চ প্রযুক্তি কোম্পানির অধিগ্রহণ পর্যন্ত। টেক্সাস ও লুইজিয়ানার এলএনজি প্রকল্প, ভার্জিনিয়ার ডেটা সেন্টার, নিউ ইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলসের বিমানবন্দর সম্প্রসারণ—সবখানেই চীনের অর্থায়ন রয়েছে।  

এছাড়াও অ্যামাজন, এটিঅ্যান্ডটি, ভেরাইজন, টেসলা, জেনারেল মোটরস, ফোর্ড, বোয়িং ও ডিজনির মতো ফর্চুন ৫০০ কোম্পানিও চীনা ঋণ সুবিধা পেয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই কার্যক্রম মূলত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, খনিজ সম্পদ ও উচ্চ প্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে।  

বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ কমিয়ে চীন এখন উন্নত বাজারে তার উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাজ্য ৬০ বিলিয়ন ডলার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৬১ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে।  

এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে চীনের বৈশ্বিক কৌশল নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে—যেখানে উন্নত অর্থনীতির সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি খাতে প্রভাব বিস্তারই মূল লক্ষ্য।

শেয়ার করুন