Calcutta Television Network

ভারতই একমাত্র বড় অর্থনীতি, কোভিড-পূর্ব গতিপথকে ছাড়িয়ে

২০১৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাস্তব জিডিপি প্রবণতার তুলনা বিশ্ব অর্থনীতির এক নতুন চিত্র তুলে ধরেছে। ভারত একমাত্র বড় অর্থনীতি হিসেবে কোভিড-পূর্ব গতিপথকে ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে চীন ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র মূলত প্রবণতায় ফিরে এসেছে, ইউরোপ সামান্য নিচে রয়ে গেছে এবং রাশিয়া ধীর কিন্তু সীমিত উন্নতি দেখাচ্ছে।  

এই সূচক প্রতিটি দেশের জিডিপিকে তাদের অনুমানকৃত কোভিড-পূর্ব প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করে। অর্থাৎ, শুধু মহামারির ধাক্কা থেকে পুনরুদ্ধার নয়, বরং অর্থনীতি আসল গতিপথে পৌঁছেছে কি না, তা বোঝায়।  

ভারতের গল্প সবচেয়ে নাটকীয়। ২০২০ সালে দেশটি প্রায় –২৭ শতাংশ প্রবণতার নিচে নেমে গিয়েছিল, যা বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে সবচেয়ে গভীর পতন। কিন্তু পরবর্তী পাঁচ বছরে ভারত অসাধারণ পুনরুদ্ধার করেছে। ২০২২ সালের শেষ নাগাদ প্রবণতার সঙ্গে ফারাক ঘুচে যায়। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধি অনুমানকৃত গতিপথকে ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারত প্রায় +৬ থেকে +৭ শতাংশ প্রবণতার ওপরে অবস্থান করছে—একমাত্র বড় অর্থনীতি হিসেবে প্রত্যাশিত গতিপথকে অতিক্রম করেছে। এটি সাময়িক উত্থান নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত।  

যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালে –১১ শতাংশ নিচে নেমেছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করে ২০২২ নাগাদ প্রবণতায় ফিরে আসে। এরপর থেকে অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলেও অতিরিক্ত উন্নতি দেখায়নি। ইউরোপ –২ থেকে –৪ শতাংশ নিচে রয়ে গেছে, ধীর প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি সমস্যার কারণে। রাশিয়া –১২ শতাংশ থেকে উঠে এসে ২০২৫ নাগাদ –২ থেকে –৩ শতাংশ নিচে স্থিতিশীল হয়েছে।  

চীনের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ২০২২ থেকে তার জিডিপি ক্রমশ প্রবণতার নিচে নামতে থাকে এবং ২০২৫ নাগাদ –৭ থেকে –৮ শতাংশ নিচে পৌঁছায়। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সম্পত্তি খাতের চাপ, জনসংখ্যাগত পতন ও রপ্তানি হ্রাস এর কারণ।  

সারসংক্ষেপে, ভারত একমাত্র বড় অর্থনীতি যা শুধু হারানো জমি পুনরুদ্ধার করেনি, বরং কোভিড-পূর্ব গতিপথকে ছাড়িয়ে গেছে। চীন একমাত্র বড় অর্থনীতি যা ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এই বিভাজন আগামী বছরগুলোতে বিশ্ব অর্থনৈতিক র‌্যাঙ্কিং ও ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারে বড় প্রভাব ফেলবে।  


শেয়ার করুন