২০২৫ সালের *Sanctioning Russia Act* যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউক্রেন শান্তি আলোচনার স্থবিরতার মধ্যে এপ্রিল মাসে প্রস্তাবিত এই দ্বিদলীয় বিলের নেতৃত্ব দেন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও রিচার্ড ব্লুমেনথাল। ১৬০ জনেরও বেশি কংগ্রেস সদস্যের সমর্থন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পাওয়ায় এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে।
আইনের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করা। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ান আমদানির ওপর ৫০০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব দেশ রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম বা পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনতে থাকে, তাদের পণ্যের ওপরও সমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে চীন ও ভারতসহ বড় অর্থনীতি সরাসরি এই আইনের আওতায় আসছে। রাশিয়ার সামরিক বাজেটের প্রায় ৪০% জ্বালানি আয়ে নির্ভরশীল হওয়ায় এই পদক্ষেপ মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আইনে আরও রয়েছে রাশিয়ান কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদ জব্দ, এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত দ্বৈত প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ। সমর্থকরা মনে করেন, এই আইন রাশিয়াকে প্রকৃত আলোচনায় বাধ্য করবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনও সমর্থন জানিয়েছেন, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, এত বড় শুল্ক আরোপে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়তে পারে, জ্বালানি বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভারত ও চীন পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে বা বিকল্প জোটে সম্পর্ক গভীর করতে পারে, যা ডি-ডলারাইজেশনের প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করবে।
নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সিনেটে বিলটি ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে। কার্যকর হলে এটি মহাশক্তির প্রতিযোগিতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে, প্রমাণ করবে যে আধুনিক যুদ্ধে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতাও সামরিক শক্তির মতোই কার্যকর হতে পারে।