চোখ ছিল না, তবু দেখেছিলেন ভবিষ্যৎ। তিনি বলেছিলেন, আর কিছুদিন... তারপর পৃথিবী আর থাকবে না আগের মতো। এই কথাগুলি বলেছিলেন একজন নারী, যিনি জন্মেছিলেন সাধারণ পরিবারে, কিন্তু চলে গেলেন এক রহস্যময় দিকদর্শক হিসেবে। তিনি বাবা ভাঙ্গা—বুলগেরিয়ার সেই বিখ্যাত অন্ধ ভবিষ্যৎবক্তা, যাঁকে অনেকেই বলেন ব্যালকানের নস্ট্রাডামাস।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৯/১১ হামলা, ব্রেক্সিট থেকে চেরনোবিল—অনেক ভবিষ্যদ্বাণী নাকি বাস্তবেই ঘটেছে তাঁর মুখনিঃসৃত শব্দের ছায়ায়। কিন্তু এবার যা সামনে এসেছে, তা রীতিমতো গা ছমছমে।
হাতে সময় কম, আসছে প্রলয়! বাবা ভাঙ্গার অগণিত ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে একটি বিশেষ ভয় ধরিয়ে দেয় সকলকে। তিনি বলেছিলেন, 'একসময় মানুষ আকাশে হাঁটবে, কিন্তু সেই আকাশই আগুন হয়ে ঝরে পড়বে তাদের মাথায়।' অনুগামীরা বলেন, এটি আসন্ন মহাজাগতিক ধ্বংস, পরমাণু যুদ্ধ, কিংবা AI-এর দখল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী।
বিশেষ করে ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে আগামী দশক নাকি মানব সভ্যতার জন্য সবচেয়ে অন্ধকারময় সময়—এই সময়েই পৃথিবী পৌঁছাতে পারে তার শেষ প্রান্তে। কী বলছেন অনুগামীরা? অনেক গবেষক বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলিকে বিশ্লেষণ করে নিচের কিছু ভয়ংকর ইঙ্গিত দিয়েছেন। যেমন- ইউক্রেন, রাশিয়া, চীন, আমেরিকা—বিশ্ব রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তেজনা। পরমাণু যুদ্ধ যে কোনও সময় শুরু হতে পারে। একটি বিশাল গ্রহাণু বা মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসবে, যা বিশাল এলাকা ধ্বংস করতে পারে। AI মানুষের দখল নেবে, মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো ভয়াবহ প্রযুক্তি আসবে। বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাবে, পৃথিবীর বহু অঞ্চল ডুবে যাবে। কোভিডের থেকেও ভয়াবহ এক ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে মৃত্যু মিছিল ঘটাবে।
বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীকে ছাঁটাই করলেও, বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়—AI দ্রুত মানব মস্তিষ্কের বিকল্প হয়ে উঠছে, পরমাণু অস্ত্রের হুমকি ঘনিয়ে আসছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমাগত ঘূর্ণিঝড়, দাবানল, বন্যা হচ্ছে, ভাইরাসের নতুন রূপ বারবার ভয় ধরাচ্ছে। তাহলে কি বাবা ভাঙ্গা যা বলে গিয়েছিলেন, তা নিছক কথার কথা ছিল না? এখন সময় এসেছে প্রকৃতির কাছে মাথা নত করার, অতি প্রযুক্তি নির্ভরতা কমানোর, যুদ্ধ আর ঘৃণার বদলে বিশ্বশান্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার। প্রলয় থামানো হয়তো আমাদের হাতে নেই, কিন্তু তাকে বিলম্বিত করা, মানবতার স্বার্থে জেগে ওঠা—তা তো আমাদের দায়িত্ব!
বাবা ভাঙ্গার চোখ ছিল না, কিন্তু ছিল এক অন্তর্জ্ঞানে ভরা দর্শন। তিনি যে কথা বলে গিয়েছেন তা হয়তো অলৌকিক নয়, বরং সময়ের আগাম সতর্কবার্তা। যদি আমরা এখনো না জাগি, তবে প্রলয় আর ভবিষ্যদ্বাণীর মাঝে থাকব না আমরা— থাকবে কেবল শূন্যতা।