২০২৫ সালের জুলাই মাস। সুইডেনের গোটেনবার্গ শহরের মাটিতে যখন বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের ১৭০০-র বেশি দল একত্র হয়েছে এক ঐতিহ্যবাহী যুব ফুটবল যুদ্ধে—সেই মহারণে ভারতের নাম উঠে এল সবার ওপরে। গোথিয়া কাপ ২০২৫-এ ভারত শুধু খেলেনি, চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরেছে, তাও এমন একটি দলের সঙ্গে লড়ে যায় যারা Special Olympics Bharat।
গোথিয়া কাপকে বলা হয় 'World Youth Cup'। এটি শুধু প্রতিযোগিতা নয়, আন্তর্জাতিক যুব ফুটবলের শ্রেষ্ঠ মঞ্চ। যেখানে ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী ফুটবলাররা স্বপ্ন নিয়ে আসে, দেশের জার্সি গায়ে খেলে। এবার ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছে Special Olympics Bharat দল—যাঁরা বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতা (intellectual disability) থাকা সত্ত্বেও দেশের পতাকা বিশ্বদরবারে উড়িয়েছে।
তাদের প্রতিপক্ষ হিসাবে ছিল পোল্যান্ড। এই খেলায় ৩-১ -এ জয়লাভ করেছে ভারত। জম্পেস গোল করেছে অঙ্কুশ কুমার। ৮ম ও ১৪তম মিনিটে মাঠ কাঁপিয়ে ২টো গোল করেছে। এই টান টান উত্তেজনার মধ্যেই ২৯তম মিনিটে ১টা গোল করেছে সায়ীদ মুহাম্মদ।
সায়ীদ মুহাম্মদ পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তাঁর মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ৭টি। এছাড়াও অঙ্কুশ ও স্ট্যালিন কুমারও মারাত্মক খেলেছে। ভারতীয় দল ছিল এক অনবদ্য মুডে—তাদের ডিফেন্স থেকে অ্যাটাক ছিল অসাধারণ, তাদের খেলাটা দেখে বোঝাই যাচ্ছে তারা পরিকল্পনা করে সুন্দরভাবে খেলেছে, আর তাদের আত্মবিশ্বাস ছিল দেখার মতো।
২০২৫ সালের জুলাই—সুইডেনের গোটেনবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত গোথিয়া কাপের ৫০তম বর্ষপূর্তি সংস্করণে ভারত ইতিহাস সৃষ্টি করল। বিশ্বের যুব ফুটবলের অলিম্পিক বলা হয় এই টুর্নামেন্টকে। আর সেই মঞ্চেই দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হল Special Olympics Bharat-এর ছেলেরা, যারা ফাইনালে পোল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে।
Special Olympics Bharat-এর এই জয়, ইতিহাসগড়া জয়। এই দলটি মানসিকভাবে বিশেষ সক্ষম খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি। তাঁরা দেখিয়ে দিলেন, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতাই বড় পরিচয়। আর এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তারা ৩-১ এ পোল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন করলেন। SKF-এর স্পন্সরশিপ ও সহযোগিতায়, তাঁদের দল সুইডেন পৌঁছায় এবং করে বাজিমাত।
পাঞ্জাবের Minerva Academy Football & Cricket Club তুলে আনল আরও এক গর্বের খবর। তাদের U-14 বালক দল গোথিয়া কাপের প্রধান বিভাগে জয়ী হয়েছে, যা তাদের ২০২৩ সালের U-13 শিরোপা জয়ের পরে দ্বিতীয় বড় ট্রফি। এই সাফল্য প্রমাণ করে ভারতের ফুটবল পরিকাঠামো ও প্রতিভা—যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে।
হরিয়ানার U-15 মেয়েদের দল গোথিয়া কাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছে এবং অসাধারণ দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমগ্র টুর্নামেন্টে নিজেদের স্থান পাকা করেছে। যদিও তারা শিরোপা জেতেনি, তবুও প্রতিটি ম্যাচে তাদের খেলা ছিল প্রশংসনীয়।
ভারতের এই জোড়া সাফল্য শুধু কাপ জয় নয়, এটা বিশ্বমঞ্চে ফুটবল শক্তি হিসেবে ভারতের অভ্যুদয়। Special Olympics Bharat-এর খেলোয়াড়রা আমাদের শিক্ষা দিল—জয় মানে শুধু স্কোরলাইন নয়, সাহস, সংগ্রাম আর স্বপ্নের জয়। Minerva Academy আর হরিয়ানা দলের পারফরম্যান্সও জানান দিল—ভারতের ফুটবল ভবিষ্যৎ আজকের মাঠেই তৈরি হচ্ছে।
ভারতীয় দল এর আগেও এই শিরোপা জিতেছে, কিন্তু এবারের জয় ছিল সবচেয়ে আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ।
জয়ের পর ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন- Special Olympics Bharat-এর সভাপতি মল্লিকা নাড্ডা। বলেন, 'এই জয় শুধু মাঠের নয়, গোটা সমাজের এক জয়। অন্তর্ভুক্তি, সাহস আর মর্যাদার জয়।'