Calcutta Television Network

এই পাখির আশ্চর্য ক্ষমতা: আকাশে ওড়ার সময় কীভাবে ঘুমায়?

ঘুমোয়, যেটি বিজ্ঞানের ভাষায় পরিচিত “ইউনিহেমিস্ফেরিক স্লো-ওয়েভ স্লিপ” (Unihemispheric Slow-Wave Sleep) নামে। এর মানে, যখন ফ্রিগেট পাখি ঘুমায়, তখন তাদের মস্তিষ্কের এক পাশ ঘুমিয়ে পড়ে, অপর পাশ থাকে জেগে। ফলে, তারা একসঙ্গে বিশ্রামও নিতে পারে এবং উড়তেও পারে – এক আশ্চর্য জৈবিক অভিযোজন।

ফ্রিগেট পাখি অনেকটা সময় আকাশেই কাটায়। তারা সাগরের ওপর দিয়ে দিনের পর দিন, এমনকি সপ্তাহের পর সপ্তাহ উড়ে বেড়াতে পারে, যেখানে কোনো বসার বা বিশ্রামের জায়গা নেই। এই দীর্ঘ যাত্রায় তাদের স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর  কোনো সুযোগ নেই। অথচ শরীরের পুনর্গঠন ও শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরি। এই কারণেই তারা বিকল্প হিসেবে এই ইউনিহেমিস্ফেরিক ঘুমের পথ বেছে নিয়েছে। এতে তারা একদিকে বিশ্রাম পায়, আবার অন্যদিকে পরিবেশ সম্পর্কে সজাগ থাকতে পারে।

এদের ডানার বিস্তার প্রায় ২.৩ মিটার, যা তাদের হালকা শরীরের সাথে মিলিয়ে এক দীর্ঘস্থায়ী উড্ডয়নে সহায়তা করে। তবে এই দীর্ঘ উড্ডয়নের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি স্বাভাবিক। গবেষণায় জানা যায়, ফ্রিগেট পাখি প্রতিরাতে গড়ে মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ঘুমোয়, সেটিও বিভক্তভাবে। অর্থাৎ একটানা দীর্ঘ ঘুমের বদলে তারা অল্প অল্প সময় ঘুমিয়ে নেয়।

এই বিশেষ ঘুম তাদের শিকার খোঁজা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ এবং শত্রুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি কেবল একটি ঘুমের ধরন নয়, বরং প্রকৃতির এক অদ্ভুত অভিযোজন যা ফ্রিগেট পাখিকে দিয়েছে টিকে থাকার এক নতুন কৌশল।

এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতা আমাদের শেখায়, প্রকৃতি তার প্রতিটি প্রাণীকে জীবন সংগ্রামের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রস্তুত করে। ফ্রিগেট পাখির এই ঘুমের ধরন শুধু বৈজ্ঞানিক কৌতূহলই নয়, বরং প্রমাণ করে – জীবন মানেই অভিযোজন আর টিকে থাকার লড়াই।

শেয়ার করুন